আবারো বিতর্কিতরা ঢামেক ছাত্রলীগের নেত্রীত্বে আসতে চায়

ডিবিবি

ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২০ | আপডেট: ১০:০৫:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২০ |

দীর্ঘদিন যাবৎ কমিটি না থাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ(ঢামেক) ছাত্রলীগের কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে নতুন কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই শীর্ষ পদপ্রার্থী হিসেবে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে বিতর্কিতরা। তথাকথিত এ সকল “হট ক্যান্ডিকেট” এর নামে আছে অছাত্রত্ব, মাদক সেবন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ।

তথা কথিত হট ক্যান্ডিডেটদের মধ্যে ২০১৯ সালে বিলুপ্ত ঢামেক ছাত্রলীগের ফজলে রাব্বি হল শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ আল-আমিনের নামে আছে নানাবিধ অরাজগতার অভিযোগ। তদন্ত করে দেখা গিয়েছে ২০১৮ সালে এমবিবিএস পাশ করে ছাত্রত্ব শেষ করলেও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ বাগিয়ে নেওয়ার জন্য তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তিনি এমনকি “বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল” এর রেজিষ্ট্রেশন নং-১০২৬৪৮ এ নিবন্ধনকৃত চিকিৎসক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মদ্যপানকৃত অবস্থায় তার ছবি খুজে পাওয়া যায়। তার নানাবিধ অসামাজিক কার্যক্রমে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মচারীরা অতিষ্ঠ। তার নামে রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন দোকানপাট ও ক্যান্টিনে চাঁদাবাজির অভিযোগ। এছাড়াও রয়েছে বহিরাগতদের নিকট হলের মাঠ ইজারা দেয়া, হলের রুম ভাড়া দেয়া, হলের সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করা সহ নানাবিধ গহির্ত অভিযোগ। এর আগে তার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং অসামাজিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং টেলিভিশন মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও কোনোও অজানা শক্তির ছত্রছায়ায় তিনি বারবার ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। এত অভিযোগ সত্ত্বেও এই নেতা ঢামেক ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রার্থীদের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে আছেন।

শীর্ষ পদ প্রার্থীদের দৌড়ে আরেকজন নেতা জাকিউল ইসলাম ফুয়াদ। ভিন্ন মতাদর্শী পরিবার থেকে উঠে আসা হঠাৎ করে নেতা বনে যাওয়া এই ব্যাক্তি একজন হত্যা চেষ্টা মামলার প্রধান আসামী। বহিরাগতদের নিয়ে ব্যাক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রোশের বশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, ভয়ভীতি দেখানোর একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার উপর। এছাড়াও বহিরাগত ক্যাডারদের নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অভ্যন্তরীণ এবং সংলগ্ন এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভয়ভীতি এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ বহুদিন ধরেই ভুক্তভোগীরা দিয়ে আসছেন। এমনকি প্রভাব বিস্তারের জন্য জামাত-শিবির অনুসারীদের আশ্র‍য়ও দিয়েছেন এই নেতা।

ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শীর্ষপদে এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের উত্থানে সংকিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত, সৎ, চরিত্রবান, নিয়মিত ছাত্ররা দায়িত্বে আসুক সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই প্রত্যাশা।