উপজাতিরা কি বাংলাদেশি নয়; নাকি শুধু বাঙালি

জোবায়ের সাকিব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭:১৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২১ | আপডেট: ৭:১৩:অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২১ |

বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র অংশ হলো এ দেশের উপজাতিরা। তারা তাদের আলাদা বৈশিষ্ট্যের কারণে এদেশে বিশেষভাবে পরিচিত। তাদের ভাষা, চেহারার ধরন, সামাজিক রীতিনীতি, সমাজ ব্যবস্থা, রাজনৈতিক মতাদর্শ, মূল্যবোধ থেকে শুরু জীবনের সকল কিছু প্রায় ভিন্ন। পাহাড়ি অঞ্চলে এদের বসবাস হওয়ায় এরা সমতল ভূমির মানুষদের থেকে আলাদা জীবনযাপন করে আসছে। নিজেদের পূর্ব পুরুষ থেকে পাওয়া যে সংস্কৃতি তা আগলে রেখেছে এবং তাদের কারো কারোর নিজস্ব ভাষাও রয়েছে। তবে এখন তাদের বেশিরভাগই বাঙলা ভাষা চর্চা শুরু করেছে, বাঙালি সংস্কৃতি চর্চা শুরু করেছে। ধর্ম চর্চার ক্ষেত্রে রয়েছে বৈচিত্র্য। তারা নানাজন নানা ধর্মের অনুসারী। পাহাড়ি অঞ্চলে খ্রিস্টান মিশনারিরা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে সেখানকার মানুষদের ধর্মান্তরিত করে আসছে। কেউ কেউ নিজ ইচ্ছাতে ইসলাম ধর্মও গ্রহণ করছে তাদের পুরাতন ধর্মের প্রাচীর ভেঙে।

এই অঞ্চলগুলোতে প্রভাবশালীরা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা অপকর্মে করে আসছে। এই এলাকাগুলোতে একের পর এক একটি নির্দিষ্ট অপরাধ গোষ্ঠী তাদের অপকর্মের লিস্ট লম্বা করছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে সরকারের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায় না। মূলত, তারা নিজেদের মতো করে একটা স্বাধীন দেশে থেকে আলাদা কলোনি গড়ে তুলছে। বস্তুত এটি হলো একই রাষ্ট্রের মধ্যে দুইটি সরকারের অস্তিত্বের মতো ব্যাপার। প্রশ্ন হলো- তারা কি বাংলাদেশি নাকি বাঙালি?

স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হলেও তারা তাদের নিজেদের মতো করেই বসবাস করে আসছে। কিন্তু কেন? তাদের কাছে সরকার পৌঁছায়নি নাকি সরকার সেখানে পৌঁছাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছে? সত্য কোনটি। এটি প্রকৃতপক্ষে উদ্বেগের বিষয় যে একটা নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মধ্যে বাস করে আলাদা ভাবে নিজেদের আইন তৈরি করা। জানা যায় যে, উপজাতি বলে যাদের বলা হয় তাদের মধ্যে অস্ত্রধারী গোষ্ঠী রয়েছে। তারা তাদের নির্দিষ্ট অঞ্চলে চাঁদা আদায় করে থাকে, সেটা হোক যেকোনো কিছুর ওপর।এখন এমন পর্যায়ে তাদের অপরাধ বেড়েছে যে সাধারণ মানুষদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে গেছে। মাঝে মাঝেই শুনতে পাওয়া মানুষের নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ।

উপজাতিরা যেহেতু বাংলাদেশের ভূ-খন্ডকে ব্যবহার করে, সুতরাং তাদের অবশ্যই দেশীয় আইনের মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করতে হবে এবং একই সাথে দেশীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। উপজাতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যে দেশের আইনকে ভয় পায়না তার উদাহরণ কয়েকদিন আগের একজন নওমুসলিমকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা। তাদের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ এবং একই সাথে সরকারের ব্যর্থতাও স্বীকার করে নিতে হবে। তাদের অপকর্ম বন্ধ করার জন্য সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং দেখতে হবে তাদের হাতের দামী অস্ত্র কোথায় থেকে আসে।