একজন করোনা জয়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গল্প

এম ডি নুরুল মোস্তফা ডিবিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২০ | আপডেট: ১০:০১:অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২০ |

ছবিঃ বাংলাদেশ বার্তা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এর সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমজাদ হোসেন অর্ণব । শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা যাওয়ায় গত ১৪মে তিনি করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠান এবং ১৬মে তার করোনা পরীক্ষার রেজাল্ট পজিটিভ আসে। ডাক্তারি পরামর্শ এবং কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করে চিকিৎসা চালিয়ে তার ২য় এবং ৩য় ফলো-আপ করোনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে। তিনি বর্তমানে পুরোপুরি সুস্থ রয়েছেন। তার সেসব চিকিৎসা পদ্ধতি এবং অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে তিনি।

যা ‘বাংলাদেশ বার্তা‘র পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলোঃ

অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হবার পরের অভিজ্ঞতা জানতে চেয়েছেন। যারা এখনো করোনায় আক্রান্ত হননি (সৃষ্টিকর্তা সবাইকে সুস্থ রাখুক) এবং যারা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে রয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা সংক্ষেপে শেয়ার করছি।

✅ প্রথমে বলে নিই আমি কিভাবে আক্রান্ত হলাম??

মার্চের ০৮ তারিখ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ার পর সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে মানুষের মাঝে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রায় প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে মাঠে থাকতে হয়েছে এবং নিয়মিত অফিস করতে হয়েছে। এছাড়াও মুজিববর্ষে ”করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লক্ষ পরিবারের মধ্যে” নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কর্মসূচির আওতায় এ জেলার ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত তালিকা যাচাইয়ের কাজ বাড়ি বাড়ি গিয়ে করেছি। তাছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে গরীব ও দুস্থ মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছি। অসাবধানতাবশত কখন, কিভাবে, কার মাধ্যমে সংক্রমিত হলাম বুঝতেই পারিনি।

যখন দেখলাম শরীরে হালকা জ্বর, সর্দি, কাশি অনুভূত হচ্ছে তখনই দেরি না করে করোনা পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল পাঠালাম। রিপোর্ট যা হবার তাই – করোনা পজিটিভ। 😥

একথা শোনার পর আমার ক্ষেত্রে যা হয়েছে-
😔 হাত-পা কাঁপা-কাঁপি শুরু হয়ে গিয়েছিল।
😔 একটানা ৫-৬ দিন ১/২ ঘন্টার বেশি ঘুমাতে পারিনি। বার বার মনে হয়েছে ঘুমিয়ে পড়লেই না জানি কি হয়ে যায়।

🔵 করোনা পজিটিভ হওয়ার পর যে ঔষধগুলো সেবন করেছি (একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শক্রমে)–

1) Tab.Zimax 500mg (0+0+1) 7days

2) Tab.Scabo 6/Ivera 6 (2 টা ট্যাবলেট একদিনে একবার)

3) Tab.Tofen 1mg(1+0+1) 15days

4) Nasal drop. Rynex 0.05%(2 drops in each nose 3-4 times daily) (সর্দি থাকলে)

5) Tab.Xinc 20mg(2+2+2) 15days

6) Tab.Ceevit Ds(1+0+1) 15days

7) Tab.Esonix 20mg(1+0+1) (খাওয়ার আগে)

8. Tab.Monas 10mg(0+0+1) 15days (প্রচণ্ড কাশি ও শ্বাসকষ্ট হলে)

09) Inhaler.Sulprex ( 2 puff /Chap 3-4 times daily) (শ্বাসকষ্ট হলে)

10) Tab. Napa 500mg (1+1+1) (জ্বর থাকলে)

🔷তাছাড়া যেসকল ঘরোয়া টেকনিক অবলম্বন করেছি (সুস্থ অবস্থায়ও আমাদের সকলকেই নিম্নোক্ত টেকনিকগুলো অনুসরণ করা উচিত) –

✅ মধু, আদা, লবঙ্গ, রসুন ও লেবুর রস মিশ্রিত চা/গরম পানি দিনে অন্তত ৪/৫ বার পান করেছি।
✅ দিনে অন্তত ৫ বার গরম পানির Steam (ভাঁপ) নিয়েছি।
✅ লবণ/ভিনেগার মিশ্রিত গরম পানি দিয়ে দিনে কমপক্ষে ৫ বার করে গার্গল (কুলি) করেছি।
✅ ডিম, দুধ, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে খেয়েছি।
✅ প্রতিদিন কমপক্ষে ২০-৩০ মিনিট রোদ পোহাতে হয়েছে।
✅ প্রতিদিন অন্তত ৬-৮ ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করা। (পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের ইমিউনিটি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে)

🚫 বিঃ দ্রঃ কোনোভাবেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। মনে সাহস রাখলেই করোনাকে জয় করা সম্ভব। সত্যি কথা বলতে করোনা একটা আতঙ্ক ছাড়া কিছুই না। আতঙ্কিত হলেই সমস্যা। আমি আবারো বলছি, কোনোভাবেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না।

⏩এছাড়াও নিম্নোক্ত বিষয়গুলো আমাদের সবাইকে মেনে চলা উচিত⏬
🔶 নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করুন।
🔶 হাঁচি ও কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন।
🔶 সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন।
🔶 সর্বোপরি ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন।

আশা করি উপর্যুক্ত নিয়মগুলো অনুসরণ করলে যে কেউ করোনা থেকে সহজেই মুক্তি পাবে।
ইনশাআল্লাহ! আবারও নতুন উদ্যোমে দেশের এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করবো। আমার কাছে দেশের এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে পারাটা গর্বের।
সকলের দোয়া প্রত্যাশা করছি।
ধন্যবাদ।।