করোনাকালে ক্যাম্পাসিয়ানদের ঈদ

মোঃ জাহিদ হাসান ডিবিবি

ফিচার ও মতামত ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ৭, ২০২০ | আপডেট: ৯:০০:অপরাহ্ণ, জুন ৭, ২০২০ |

করোনাকালে ক্যাম্পাসিয়ানদের ঈদ (ছবিঃ বাংলাদেশ বার্তা)

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি । কিন্তু করোনা ভাইরাস নামক দুর্যোগের ফলে এবারের ঈদে আনন্দের সাথে মিশে ছিলো ভয় আর আতঙ্ক । অনেক কিছুই পালিত হয়নি স্বাভাবিকভাবে । ঈদ চলে গেলো প্রায় একসপ্তাহ হয়ে গেছে । কিন্তু কেমন কাটলো ক্যাম্পাসিয়ানদের এবারের ঈদ? কোনো ভিন্নতা ছিলো কি? জানাচ্ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী মোঃ জাহিদ হাসান ।

ধরে নেই এখন যেমন দিন যাচ্ছে সময়টি তেমন নয় । সব কিছুই স্বাভাবিক । এখন যারা আমাদের মাঝে নেই তারা আমাদের মাঝেই আছেন । তাহলে হয়তো শিরোনাম অন্য কিছু হতো । কিন্তু বাস্তবতার চিত্র ভয়াবহ। এমন এক সময়ে ঈদ আমাদের মাঝে এসেছে যখন ঈদ শব্দের অর্থ যে আনন্দ সেটাই হয়তো বুঝতে সময় লেগে যায়। মহামারী কোভিড-১৯ তে যারা স্বজন হারিয়েছে তাদের হয়তো অঝোরে অশ্রু ফেলা ছাড়া আর কিছুই নেই ।

আল্লাহর রহমতে আমার পরিবার এখনো এই মহামারীর থেকে মুক্ত । এজন্য আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া । কিন্তু আশেপাশের অনেকের সর্বোপরি দেশবাসীর এই ক্রান্তিলগ্নে আমার পরিবারের মতো কারোই ঈদ ভালো যায়নি । আমার পরিবার চেষ্টা করেছে যতটুকু সম্ভব দরিদ্রদের পাশে দাড়াতে । আমার মা নিজে সিকেডি স্টেজ-৫ এর পেশেন্ট । হাতে ফিস্টুলা থাকার কারনে তিনি রান্না করতে পারেন না । আমিই বাসায় সকল রান্না করি । আগের পরিকল্পনা মাফিক আব্বু সব বাজার করে এনেছিলেন । ঈদের সকাল থেকেই আমি গরুর তেহারি রান্না শুরু করি । রান্নার পরিকল্পনা ছিলো আনুমানিক ২০ জনের । কিন্তু রান্না শেষে দেখা গেলো যে আল্লাহর রহমতে ২৮ জনের খাবার প্রস্তুত করতে পেরেছি । খাবারগুলো প্যাক করে আব্বু সেগুলো নিয়ে বেড়িয়ে গেলেন দুস্থদের মাঝে দেয়ার জন্য যারা ঈদে খাবার একেবারেই পাচ্ছিলো না । সাথে আব্বু নগদ কিছু ভাংতি টাকা নিয়ে গিয়েছিলেন রাস্তার শিশুদের সালামি দেয়ার জন্য । সত্যি বলতে ঈদের আনন্দ ছিলো না যেমন সত্য তেমনি এসব মানুষকে খাবার খাইয়ে অন্তর থেকে যে শান্তি পাওয়া যায় সেটা ঈদের আনন্দ থেকে কোনো অংশেই কম না । আমাদের দেখে আমাদের কয়েকজন প্রতিবেশীও ঈদের পরের দিন খাবার রান্না করে এসব মানুষকে খাইয়েছে, ব্যাপারটি দেখে বেশ ভালো লেগেছে । অন্তত কিছু মানুষকে তো উপকার করতে পারলাম । আল্লাহ আমাদের কে এই বিপদ থেকে জলদি রক্ষা করুক, আমিন ।

রবিউল যোবায়ের
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

 

কথা ছিল আনন্দে, হাসিমুখে, মনের গহীন থেকে সবাইকে বলবো “ঈদ মোবারক”। কিন্তু প্রকৃতি তাতে কি সাড়া দিয়েছে?
ঈদ মানে খুশি, আনন্দ আর মানুষ মানুষের মাঝে একটি উৎসব । ঈদে একে অপরের মধ্যে সকল হিংসা-বিদ্বেষ, শত্রুতা ভুলিয়ে দিয়ে সৃষ্টি করে এক অপরূপ সুন্দর ভালোবাসার বন্ধন । কিন্তু এবারের ঈদে এসবের পরিবর্তে মানুষের মধ্য দেখতে পেয়েছি অন্যরকম একটি ভয়, আতঙ্ক । কেননা রাস্তায় করোনা পথ রুদ্ধ করে রেখেছিলো । মনে ভয় নিয়ে ঈদের নামাজ পড়তে হয়েছে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে । হয়নি আনন্দ ভাগাভাগি, হয়নি কারো সাথে কোলাকুলি । এ যেন এক অন্যরকম ঈদ । ঈদ মানুষের মধ্যে শান্তির বার্তা, হাসি উল্লাসের পরিবর্তে ভয়-আতঙ্কে অন্য রকম এক অশান্তির সৃষ্টি হবে তা কখনো কল্পনা বা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি । পরিস্থিতি কি নির্মম,অসহায় নিজের পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করার সুযোগ পেয়েছি ঠিকই কিন্তু নিজের বড় ভাইয়ের সাথে বাসায় আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ পায়নি, কেননা ভাই একজন ফার্মাসিস্ট ঢাকায় জব করে । চাকরি থেকে তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি, সরকার থেকে বাসায় আসা নিষিদ্ধ ছিল । যাই হোক এরকম একটা পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট প্রযুক্তি দিয়েছিল কিছুটা শান্তির বার্তা । জীবন চলে জীবনের গতিতে সময় বয়ে যায়, ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে সবাইকে জানায়েছি “ঈদ মোবারক”। ভিডিও কলে যতটুকু সম্ভব আত্মীয়-স্বজন বন্ধুদের মধ্যে কিছুটা আনন্দ ভাগাভাগি করার চেষ্টা করেছি, নিজের হৃদয়কে দিতে পেরেছি কিছুটা শান্তি, সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করি এরকম ঈদ, এরকম পরিস্হিতি আর কোনো ঈদে চাই না । পরবর্তী সব ঈদ যেন হাসিমুখে ঈদের সঠিক আনন্দ উপভোগ করতে পারি । সব শেষে তাও আমি অনেকটাই সন্তুষ্ট । কারণ পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন আমি আবার ও একটিবার ঈদের নামাজ পড়তে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ ।

রোকনুজ্জামান
ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ।

 

“আমি বাঁচার জন্য বন্দী
ধর্ম কর্ম ভাবনায় মুক্ত আমার প্রাণ,
দেশের জন্য দিতে রাজি
আমার জীবন ত্রান ।”
দুঃস্বপ্নেও কখনো ভাবিনি এভাবে ঈদ উদযাপন করতে হবে । বিধাতার লিখন খন্ডন করার সাধ্য কি কারো আছে? তবুও ঘর বন্দী জীবনে ঈদ কে সুন্দর করে সাজিয়ে নেয়ার চেষ্টার কমতি ছিলো না । অনেকে এই সময়টাকে অভিশাপ ভাবলেও আমার কাছে আশির্বাদ মনে হয় । অনেক কিছু শিক্ষা দিচ্ছে এই সময়টা আমাদের । এই বার এর ঈদটা উপলব্ধি করিছে ঈদে নতুন জামা না পড়ার হাহাকার, উপলব্ধি করিছে গৃহিণী মায়ের ঘরমুখি জীবন, হুইলচেয়ারে বসা শাহনাজ আর মিনারের মতো শত শিশুর হাহাকার । কতই না পাওয়া আকাঙ্ক্ষার উদাহরণ দেখিয়েছে । ঈদের নামাজের জামাত ও নাড়ীরটানে বাড়ি না ফেরার কষ্টে অশ্রু জলে ভিজিয়েছে বহুবার । ব্যক্তিগতভাবে প্রতিবারই রোজায় কিছুসংখ্যক মানুষকে উপহার দেয়ার চেষ্টা করি । এবারও তার চেষ্টা করেছি । এর মধ্যে অদ্ভুত একটা তৃপ্তি পাওয়া যায় ।

যাইহোক ঈদ আয়োজনের শুরুটা আম্মুর হাতে মেহেদী পরিয়ে দেয়া থেকে শুরু হয় । পরিবারকে আনন্দিত করার চেষ্টায় টুকটাক রান্না আর ঘরগুছানোর কাজে ব্যাস্ত রাখি নিজেকে । কোয়ারান্টাইনে রান্নাটা ভীষণভাবে শখ হয়ে দাঁড়িয়েছে । সবাইকে নিয়ে একসাথে সেমাই খাওয়া, লুডু খেলা, বিকালে একটু সাজুগুজু করা সবার সাথে সেলফি তুলা, সবার সাথে ফোন আলাপ, এক সাথে নামাজ পড়া, সন্ধ্যায় হালকা নাস্তার আড্ডা, রাতে পরিবারের সাথে ঈদ আয়োজনের টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখার মধ্য দিয়েই আমার ঈদ উদযাপন হয় । ঈদের সবচেয়ে আকর্ষনীয় ব্যাপার হচ্ছে ঈদ সালামি । আমার ভিন্ন রকম ঈদেও কিন্তু এটা মিস যায়নি । বাস্তবতা কে মেনে নিয়েই আমাদের আগাতে হবে । ঘরে থাকুন সুস্থ থাকুন ।

নাঈমা নাজনীন রিয়া
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

 

 

“ধর্ম যার যার উৎসব সবার” এই লাইনটি ছোট কাল থেকেই মনে ধারণ করে রয়েছি যার সুবাদে সকল ধর্মের মানুষের সাথে আমার সস্পর্ক অনেক ভালো। অনান্যবার ঈদের আনন্দ আমাকে যতোটা ছুয়ে যায় এবার তার আনেক খানি কম হবে সেটাই স্বাভাবিক । তবে এই কুণ্ঠিত ঈদের মধ্যেও ২/১ টি চমৎকার ঘটনা(অন্য কারো কাছে কেমন জানিনা তবে আমার কাছে চমৎকার) চোখে পড়ছে তবে তার মধ্যে সবচাইতে উৎকৃষ্টটা উপস্থাপন করছি।

আমার ছোটভাই বয়স সাত-আট হবে নাম অপূর্ব। অপূর্বকে পড়ানোর জন্য যে হোম টিউটরটি রাখা হয়েছে সে ইসলাম ধর্মের অনুসারী । তাই ঈদের দাওয়াত দিয়েছিল সবাইকে । যদি ও আমার যাওয়া হয় নি, ছোট ভাই যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইতে আসলে অনুমতি দিলাম ।শুধুমাত্র একটি উপদেশ দিলাম সাবধানে যেও। তার কয়েকজন বন্ধুবান্ধব সহ সাত-আট জন গিয়েছিল । যে ঘটনাটি আমি বলতে আসলাম সেটি জানতে পারলাম তারা ফিরে আসার পর। যারা গেল তার মধ্যে একজনের হাতে একটি দশ টাকার নোট দেখে কাছে ডেকে বল্লাম কি কি খাওয়াইছে তোমাদের স্যার? যথারীতি তার বিবরণ দিল এবং সাথে বললো তারা নাকি স্যারের জন্য কিছু নাস্তা নিয়ে গিয়েছে । নাস্তা নিয়ে যাওয়ার টাকা কই পাইছে বললে সে জানালো তারা যে কয়েকজন গিয়েছিলো তারা নিজেদের মধ্যে টাকা তুলে বিস্কুট আর চানাচুর নিয়ে গেছিল । আর তাদের স্যার ও নাকি সে কথাটা জানতে পেরে প্রত্যেক কে আসার আগে দশ টাকা করে দিয়েছে । আমি অবাক হলাম এই ছোট্ট ছেলে-মেয়েদের কর্তব্যপরায়ণতা দেখে । কারো বাসায় অতিথি হয়ে গেলে যে কিছু একটি নিয়ে যেতে হয় , এই ব্যপারটা তাদের মানতে দেখে সত্যিই অবাক লাগছে। এই ঘটনাটার আমি একটি নাম দিলাম-” ছোটদের কর্তব্যপরায়ণতা “।

বলরাম দাশ বিজয়
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

করোনা পরিস্থিতিতে ঈদটা ভাল কাটবে না ভেবে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পর পায়েশ, জড়দা আর শেমাইয়ের মিস্টি গন্ধে যখন ঘুম ভাঙে তখন চিরচেনা ঈদটার কথা যেন আরেকবার মনে পরে যায় । ফ্রেশ হয়ে নামাজটা বাসায়ই পড়া লাগলো । প্রতিবার নামাজ শেষে আমার নানু বাসায় যাওয়ার রীতিটা এবার ভঙ্গ হলো । তাছাড়া কোনো বন্ধুর বাসায় যাওয়ারও উপায় ছিল না।
সকাল ১০.৩০ এ শুরু হলো আব্বু-আম্মুর যৌথ উদ্যোগে রান্নার কাজ । প্রতিবার ঈদে এই জিনিসটা আমি মিস করে যাই । রান্নাঘরের চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে আমার সময় অনেকটা চলে গেলেও এ রান্না খুব তারাতারি শেষ হয় নি । অপেক্ষার প্রহর শেষে দুপুরে খাওয়ার পরিমাণ একটু বেশিই হয়ে যায় । তারপর একজায়গায় অনেকক্ষণ বসে থাকা ছাড়া আমার আর উপায় ছিল না । বিকালে কাগজ-কলম নিয়ে বসলাম আব্বু-আম্মুর সাথে চোর-পুলিশ খেলতে যদিও আমার পক্ষে কোন খেলায় জেতা সম্ভব না ।
সন্ধ্যায় ছাদে বসে গান শুনতে শুনতে চা খেতে ইচ্ছে করলো ; তার বেশ কিছুক্ষণ পরে বাসায় এসে ফোনটা নিয়ে সবার খোজখবর নেওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু ঈদ সালামি পেয়ে এক চমৎকার অনুভূতি হলো। রাতে খাওয়ার পরে সারাদিনের কথা ভাবতে ভাবতে এক সময় ঘুমিয়ে পরি । ঈদটা ব্যতিক্রম হলেও খুব একটা খারাপ ছিল না ।

সানান রহমান অভিক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে প্রচুর ঘুরাঘুরি আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা । কিন্তু এবারের ঈদ মানে ছিল ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন । করোনার আতংকে দেশ যখন তটস্থ তখনই এল ঈদ । সেমাই এর গন্ধে ঘুম ভাঙ্গলেও নামাজটা পরা হয়নি সবার সাথে । আম্মু আগের মতোই রান্না নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বাকিদের ঈদটা কেটেছে অনলাইনে । সেদিক থেকে এবারের ঈদটাকে অনলাইন ঈদ বললেও কোথাও ভুল হবে না বোধহয় । অন্যবারের মতো এবারের ঘোরাঘুরিটা কোনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে নয় বরং অনলাইনে হয়েছে । খাওয়া-দাওয়া করে ঘরে শুয়ে শুয়ে কেটেছে ঈদ। ঈদের আনন্দ যেন বিষাদময় ছিল । তবে সবার সাথে বসে জমিয়ে খাওয়াটা মিস করি নাই । সব মিলিয়ে ঈদটা ভিন্ন এক আঙ্গিকে কাটিয়েছিয়। বুঝেছি বন্দী হয়ে বাচাঁর কষ্ট

মোঃফারুক হোসেন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

প্রতিবছর চাঁদরাতে মেহেদী পরা দিয়েই আমার ঈদ আনন্দ উদযাপন শুরু হলেও করোনার কারনে ভেবেছিলাম এবার হয়তো আর মেহেদী পরা হবেনা । কিন্তু আম্মু সেটা হতে দেয়নি । এবারও চাঁদরাতে মেহেদী পরা দিয়েই আমার ঈদ আনন্দ শুরু হয় । আর সেটার ফোটো তুলে ফ্রেন্ডদের দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রসংশা কুড়ানোর পর ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম ।
সকালে ঘুম থেকে উঠে আম্মুর কাজে একটু আধটু সাহায্য করলাম । এবার যেহেতু করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ঈদগাহে নামাজ পড়া নিষেধ ছিলো তাই আব্বু আর ভাই সকালের নাস্তা করে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে গিয়েছিল । নামাজ পরে আসার পর পরিবারের সবাই মিলে একসাথে খাওয়া দাওয়া করলাম । বন্ধুবান্ধব, অাত্বীয়স্বজন থেকে দূরে ছিলাম ঠিকই কিন্তু ইন্টারনেটের কল্যাণে সেই দূরত্ব কমে গিয়েছিলো । একটা ভালো জামা পরে সাজুগুজু করে আম্মুকে নিয়ে বসে গেলাম ফোনের সামনে । আত্নীয়স্বজনদের সাথে ভিডিও কলে কথা বলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করলাম । তারপর আমার ফ্রেন্ডদের সাথে ভিডিও কলে দেখাসাক্ষাৎ করলাম । ঈদের শুভেচ্ছা জানালাম । সে এক অন্যরকম অনুভুতি । ঈদের আনন্দ যেন বহুগুন বেড়ে গেলো ইন্টারনেটের কল্যানে । দূরে থেকেও যেনো সবাই কত কাছে ! দিনটাকে আরো একটু সুন্দর করার প্রয়াসে বিকাল বেলার পারিবারিক আড্ডায় ছিলো আম্মুর গান আর আমার নাচ । আর সাথে লুডো খেলাও ছিলো । সবমিলিয়ে ঘরে থেকেও দারুণ উপভোগকর ছিলো ঈদের দিনটা । এ যেনো ঘরে বসে ভিন্ন রকম এক ঈদ উদযাপন ।

অনন্যা ইসলাম জেমি
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

“আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে” প্রতিটি ঈদে এরকমই কতশত কল্পনা করতাম আর ঈদের দিনটা যেন ঠিক আমার কল্পনার মতো করেই চলতো । বরাবরের মতো এবারো অনেক কল্পনা ছিলো । কিন্তু আফসোস সব কল্পনার ফলাফল ছিল “ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন”। করোনার আতঙ্ক আর ভয়ে এ এক অদ্ভুত ঈদ পালিত হয়ে গেলো । নেই বন্ধুদের সাথে আড্ডা,ঘুরাঘুরি, মাঝরাতে গানের আসর । যেখানে বিগত বছরগুলোতে শতশত জনতার সাথে এক অফুরন্ত আনন্দের সাথে ঈদের নামাজ আদায় করতাম সেখানে এবার সীমিত পরিসরে কিছু মুষ্ঠীমেয় লোকের সাথে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করলাম । সেটাও আবার সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ! আর এমতাবস্থায় কোলাকুলি তো বিলাসিতা মাত্র । ঈদের দিন শেষ হওয়ার সাথে সাথে মনে জেগে উঠলো এক অমর বাণী “হে করোনা, তুমি শুধু সৃষ্টি করোনি মানুষের মনে আতঙ্ক, করেছো মুসলমানদের অপেক্ষার ঈদের আনন্দ ক্ষুন্ন”।

আতাউল করিম আশিক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

আমরা জানি ঈদ মানে আনন্দ, উৎসব ও আয়োজন । তবে এ বছর ঠিক বিপরীত একটি ঈদ উদযাপন করেছি আমরা । কোভিড-১৯ এর রাজত্বের কারনে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের জন্য এমন বিবর্ণ একটা ঈদ এসেছে যা আগে কখনও আসেনি ।
ঈদের দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে জামাতের সাথে ফজর নামাজ আদায় করা এবং সকলের সাথে কবর জিয়ারত করা আমার ঈদের দিনের আনন্দকে বহুগুনে বাড়িয়ে দেয় । তারপর বন্ধুরা মিলে একসাথে পুকুরে গোসল করা এক অন্যরকম আনন্দ । মায়ের হাতের স্পেশাল সেমাই, নুডুলস খেয়ে ঈদের নামাজের জন্য বের হলাম । বন্ধুরা সবাই একসাথে জটলা বেধে ঈদগাহে যাওয়া সম্ভব না হলেও মসজিদেই ঈদের নামাজ আদায় করে নিলাম । কাউকে কোলাকোলি করতে না দেখলেও, কেনো জানি মনে হচ্ছিল মানুষ আজ অপরিচিত কাউকে দেখলেই ভয় পাচ্ছে, ছুটে পালাচ্ছে । প্রতিবছর ঈদের নামাজ শেষে নানার বাড়িতে যাওয়া হলেও এবার সেটা হয়ে উঠলো না । তাই এবার ঈদের সেলামী বড় আপু ও বাবা-মায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল । তারপর সারাদিন কাটলো বাবা-মা ও বোনদের সাথে গল্প-গুজব করে, বন্ধুদের সাথে অনলাইনে আড্ডা দিয়ে । পড়ন্ত বিকালবেলায় রাস্তায় যখন বের হলাম রাস্তাঘাট যেনো নিস্তধ্ব, জনমানবশূন্য । কেন যেন মনে হচ্ছিল মানুষের মন আজ তৃষ্ণার্ত । চারদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসলে ঈদের দিনের এক ব্যতীক্রমধর্মী অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরলাম ।

সোহানুল ইসলাম সরকার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।