করোনায় সবচেয়ে বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি মারা যাচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যে

প্রকাশিত: ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০ | আপডেট: ৫:৪১:পূর্বাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০ |

করোনায় অন্যান্য দেশের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী বিশ্বের ১৯টি দেশে ১ হাজার ২৩২ জন প্রবাসী বাংলাদেশির প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনা ।

এদের মধ্যে সৌদি আরবেই মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪১৫ জন বাংলাদেশির প্রাণহানি ঘটেছে। অর্থাৎ এ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে করোনায় মোট মৃত্যুর প্রায় ৩২ শতাংশই বাংলাদেশি। সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সেখানে সাড়ে ১৪ হাজার বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন।

কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযা য়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে ৪ হাজার ২০০ বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ৪৫ জন মারা গেছেন।

সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কেন এতো বেশি বাংলাদেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ও মারা যাচ্ছেন তার কারণ হিসাবে জানা গেছে, এসব দেশে ডরমিটরিতে বাংলাদেশের শ্রমিকদের গাদাগাদি করে থাকতে হয়। যা কারণে খুব দ্রুত তাদের মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়ায়। এসব কর্মীদের বেশিরভাগই দেশ থেকে জমি বিক্রি করে বা অন্য কোনোভাবে ঋণে জর্জরিত হয়ে সব সময় মানসিক চাপে ভুগেন। দেশে পরিবারের ভরণপোষণ ও কত দ্রুত ঋণের টাকা তুলতে পারবেন সেই উৎকণ্ঠায় দিন-রাত কাটে তাদের। এছাড়াও প্রচণ্ড শ্রম দেয়ার কারণে শরীরও থাকে দুর্বল। যে কারণে তাদের শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয়। আর আক্রান্তের পর এসব বাংলাদেশি শ্রমিকরা করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে পরাজিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে রিয়াদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ জানিয়েছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে গাদাগাদি করে সাত -আটজন এক কামরায় থাকার কারণে সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে।

ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গের সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া এশিয়ার নাগরিকদের সংখ্যা ২০ শতাংশ। এদের অন্তত ১৮ শতাংশই ছিলেন ডায়াবেটিসের রোগী। ওই গবেষণার পর দেখা গেছে সৌদি আরবে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া বাংলাদেশিদের বড় অংশ ছিল হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগী।

এ বিষয়ে কুয়েতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউল গনি মামুন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। বিপুল অঙ্কের ঋণের বোঝা, চাকরিতে অনিশ্চয়তা এবং সক্ষ্মতার তুলনায় বেশি পরিশ্রমের কারণে নানা রোগে আক্রান্তে হচ্ছেন তারা। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর শারীরিক সমস্যা ও বাড়তি উদ্বেগজনিত কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মারা যাচ্ছেন।