কিভাবে শূন্য থেকে শুরু করবেন বিসিএস প্রস্তুতি

মো. শাহ্ নেওয়াজ ডিবিবি

বার্তা প্রেরক

প্রকাশিত: ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০ | আপডেট: ১১:০৮:পূর্বাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০ |

নতুন প্রার্থীদের অনেকেই প্রশ্ন করেন, ‘কিভাবে প্রস্তুতি নেব? কী কী বই পড়ব? প্রিলির আগে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির সময় পাব তো?’ একজন প্রার্থী শূন্য থেকে কিভাবে শুরু করবেন, প্রস্তুতি-কৌশল কেমন হবে—জানাচ্ছেন ৩০তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে কর্মরত রেজওয়ান আহমেদ রাজু।
যারা অনার্স প্রথম বর্ষে পড়েন কিংবা দ্বিতীয় বর্ষে অথবা তৃতীয়, চতুর্থ বর্ষে পড়েন কিন্তু জানেন না কিভাবে বিসিএস প্রিপারেশন শুরু করবেন। অথবা অনেকই এমন আছেন যে, অনার্স মাস্টার্স শেষ, বিসিএস ক্যাডার হওয়া স্বপ্ন; কিন্তু কিভাবে সঠিক বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করবেন সেটা জানেন না। আজ আমি চেষ্টা করবো সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে। চলুন তাইলে মুল আলোচনায় আসা যাক।
সিলেবাস দেখে প্ল্যান: প্রস্তুতির শুরুতেই প্রথম কাজ হলো গোটা সিলেবাস ভালো করে দেখা। সিলেবাসে (পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস ১৫ নম্বর পৃষ্ঠায়) ১০টি বিষয়ের কোনগুলোর জন্য কী কী টপিক পড়তে হবে, তা দেওয়া আছে। প্রিলিমিনারির পাসের জন্য কী কী পড়তে হবে, সেগুলোর পাশাপাশি কী কী পড়ার দরকার নেই সেগুলোও জানতে হবে। এ সময়টায় পাঠ-পরিকল্পনা কেমন হবে সিলেবাস অনুযায়ী সাজান।
বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রশ্নব্যাংক: ১০ম থেকে সর্বশেষ বিসিএস প্রিলি পর্যন্ত প্রশ্নগুলো দেখে প্রশ্নপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নিন। ৩৫তম বিসিএস থেকে প্রশ্ন রিপিট হওয়ার প্রবণতা কমে গেলেও আগের প্রশ্নগুলো আপনার জন্য বেঞ্চ মার্কিংয়ের কাজ করবে। অ্যাশিউর্যান্স, প্রফেসরসসহ বাজারের বেশ কিছু প্রকাশনীর বিসিএস প্রশ্নব্যাংক বা জব সলিউশন (বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন) বই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
বুকলিস্ট : বিসিএস প্রস্তুতির শুরুতেই নতুন প্রার্থীরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে শখানেক বইয়ের তালিকাসংবলিত বুকলিস্ট শুনেই ভয় পেয়ে পিছিয়ে যান। অথচ অল্প কয়েকটি বই পড়েই প্রিলিমিনারি পাস করা সম্ভব।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা, সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নৈতিকতা মূল্যবোধ ও সুশাসন—এ বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন করা হয়। প্রতিটি বিষয়ের জন্য অন্তত একটি করে বই সংগ্রহ করবেন।
বাংলা, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির জন্য প্রফেসরস/ওরাকল/এমপিথ্রি বা আপনার পছন্দমতো যেকোনো একটি প্রকাশনীর বই সংগ্রহ করতে পারেন-
—ইংরেজির জন্য প্রফেসরসের ‘ইংলিশ ফর কম্পিটিটিভ এক্সাম’ বইটি দেখতে পারেন।
—গাণিতিক যুক্তি, মানসিক দক্ষতা ও সাধারণ বিজ্ঞানের জন্য ওরাকলের বই দেখতে পারেন।
—কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তির জন্য ইজি প্রকাশনীর বই পড়তে পারেন।
—ভূগোল ও নৈতিকতার জন্য বিষয়ভিত্তিক বই সংগ্রহ করার প্রয়োজন হয় না। ডাইজেস্ট থেকে পড়ে নিলেই উত্তর করতে পারবেন।
—বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগ মুহৃর্তে (মূল প্রস্তুতি শেষ হলে) চাকরির প্রস্তুতিসংক্রান্ত মাসিক ম্যাগাজিনগুলোর প্রিলির বিশেষ সংখ্যা এবং প্রিলিমিনারি ডাইজেস্ট থেকে আপনার প্রিপারেশনের শেষ ঝালাইটা সেরে নেবেন।
বাড়তি প্রস্তুতির জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের কিংবা আরিফুর রহমানের লেখা বাংলাদেশের সংবিধান; বাংলার জন্য ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং অগ্রদূত বাংলা; ইংরেজি সাহিত্যের জন্য শরীফ হোসাইনের প্র্যাকটিক্যাল হ্যান্ডবুক, গ্রামারের জন্য মাস্টার; গণিতের জন্য খায়রুলস বেসিক ম্যাথ; বিজ্ঞানের জন্য জামিলস বিজ্ঞান; বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির জন্য আজকের বিশ্ব বইগুলো দেখতে পারেন।
পুরো রেফারেন্স বই বা বোর্ড বই পড়ে সময় নষ্ট না করে, এসব বই থেকে সামারি করে প্রস্তুত করা গাইড বই পড়লে অর্ধেক সময় বেঁচে যাবে। এভবে যদি আপনি শুরু থেকে প্রস্তুতি নেন,তাইলে আশা করি ভালো কিছু করা যাবে।
আর হ্যা,এ সময় বেশি করে পত্রিকা পড়তে হবে, বিশেষ করে বিভিন্ন পত্রিকার আন্তর্জতিক বিষয়ক পাতা। নিয়মিত কারেন্ট এফেয়ার্স পড়তে হবে। এ সময় একদম চাপ নেয়া যাবে না।
আরেকটা কথা, আপনি যদি গণিতে দুর্বল হন আগে গণিতের একটা চার্ট কিনে বেসিক সূত্রগুলো মুখস্থ করে ফেলুন প্রতিদিন ২/৩ টা করে। দৈনিক ২-৩ টার বেশি সূত্র পড়বেন না। কারণ একসাথে বেশি সূত্র পড়লে মনে থাকবে না ভালো করে। যদি এইভাবে পড়েন নিয়মিত, দেখবেন আপনার সব সূত্র মুখস্থ হয়ে গেছে ১-২ মাসের মধ্যে। এর পাশাপাশি দৈনিক রুটিনে ক্লাস ফাইভ থেকে টেন পর্যন্ত টেক্সবুকের অংকগুলো করে ফেলুন। গণিতে ভালো করার জন্য প্র্যাক্টিসের কোনো বিকল্প নেই। তারপর বিসিএস প্রিলিতে আসা বিগত সালের গণিতে প্রশ্নগুলো সমাধান করে ফেলুন (প্রয়োজনে অভিজ্ঞদের সাহায্য নিন কিংবা গ্রুপ স্টাডি করুন)।
এবার আসা যাক স্টুডেন্টদের জাতীয় সমস্যা ইংরেজির বিষয়ে।  ইংরেজির জন্য আমি আগে বলবো আপনি একটা বেসিক ইংলিশ বই শেষ করুন। এরই সাথে প্রত্যেকদিন ৮-১০ টা ভোকাবুলারি পড়বেন। পড়ার সময় ইংরেজি সংবাদপত্র ডেইলি স্টার থেকে পড়লে  স্টক বাড়বে। এবং একটু শব্দ করে পড়ে সাথেসাথে  খাতায় লিখবেন তাহলে মনে থাকবে বেশি দিন।
আর সবগুলো বিষয় এমনভাবে পড়তে হবে যেনো প্রিলী এবং রিটেন এর প্রস্তুতি এক সাথেই হয়ে যায়।
বি.দ্র: আপনি যেসব বিষয়ে দুর্বল তা দিয়ে শুরু করার পর আপনি যখন দেখবেন যে- আপনি আর কোনো বিষয়ে দুর্বল নয়, তখন আপনার মনোবল ও আত্মবিশ্বাস অনেক গুণ বেড়ে যাবে। আর মনে রাখবেন বিসিএস হলো মনোবল ও আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা, যার মনোবল ও আত্মবিশ্বাস যত বেশি সে তত দ্রুতই সফল হবে ইনশাআল্লাহ।
লেখকঃ রেজওয়ান আহমেদ রাজু, ৩০তম বিসিএস (পুলিশ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কক্সবাজার জেলা।