কোভিড-১৯ পরিস্থিতি, বাংলার কৃষি ও করণীয়

সিফাতুল্লাহ আমিন ডিবিবি

শেকৃবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:০৬ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২০ | আপডেট: ১২:০৯:অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২০ |

কৃষি প্রধান উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে মহামারী স্থবিরতা একটি অভিশাপ। তবুও করোনা মহামারী পরিস্থিতির সাথে সামাল দিয়ে উঠতে জনগন ও সরকার উভয়দিক থেকেই মিলছে আশা। কৃষি ক্ষেত্রে এই করোনা-১৯ মহামারী কিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং কি করা উচিত তা নিয়ে গণমাধ্যম কে জানিয়েছেন দেশের কয়েকজন কৃষিচিন্তাবিদ।

অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম
ডীন, কৃষি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

মহামারী একটা দূর্যোগ। তাই আমাদের এটি কাটিয়ে ওঠাই প্রধান লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। প্রাথমিক ভাবে দেশের সকলেই বিহ্বল হয়ে পড়লেও এর ভেতরেই এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অনেকেই কাজ করছেন। আর যেহেতু কৃষি একটা চলমান প্রক্রিয়া, স্থবিরতা আর কৃষি কখনোই এক নয়, তাই যথা সম্ভব এটিকে চলমান রাখা প্রয়োজন। দেশে বেশি বৃষ্টিপাতের আশংকা করা হচ্ছে। তাই বোরো ফসল যত দ্রুত সম্ভব হারভেস্ট করতে হবে। এতে উত্তরাঞ্চল থেকে শ্রমিক করোনা আতঙ্কে আসতে না পারলেও যন্ত্রনির্ভরতা বাড়াতে হবে। কৃষি অধিদপ্তর ও তার সকল অফিসসমূহ এর জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এমন কি বোরো পরবর্তি ফসল নিয়েও তারা পরিকল্পনা করছে যেন মহামারী কৃষির ওপর বিরূপ প্রভাব না ফেলতে পারে। তবে আমার ছাত্ররা নিজ এলাকার কৃষকদের উৎসাহিত করতে পারে, তাদের সাথে কাজের মাধ্যমে বা যেকোনো ভাবে। কিন্তু এতে স্বাস্থ্যবিধি টা যেন লঙ্ঘিত না হয়। আমাদের অন্যের মুখে খাবার তুলে দিতে হবে ঠিকই কিন্তু সুস্থ দেশের জন্য। তাই সাবধানতা অবলম্বনই শ্রেয়। তবে শীঘ্রই এ সমস্যা কেটে যাবে এবং দেশের কৃষিতে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। সরকার ঘোষিত প্রণোদনা আর উৎসাহ কৃষক সঠিক ভাবে পেলে জনগন উৎপাদিত পণ্যও ঠিক ভাবে পাবে বলে আশা করছি।

অধ্যাপক ড. ফজলুল করীম
ডীন, কৃষি অনুষদ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

মহামারীর এ সময়ে সারাদেশ লক ডাউন থাকলেও কৃষি কে এগিয়ে নেয়া অত্যন্ত জরুরী। তবে বর্তমানে যে সমস্যা বড় হয়ে উঠেছে তা হলো বোরো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে। সময় মত ফসল না কাটলে হাওড় অঞ্চলে তা পানিতে ডুবে নষ্ট হবে। এক্ষেত্রে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ টা বেশি প্রয়োজন। এতে কম জনবল নিয়েই দ্রুত সময়েই কাজগুলো করা সম্ভব। যা করোনা ঝুকিও কমাবে। আর যদি পুরো যান্ত্রিকীকরণ সম্ভব নাও হয় তবে তরুন সমাজ এগিয়ে এসে সাহায্য করতে পারে কৃষিকে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি খেয়াল রাখতে হবে। কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন, তবে যেন তারা আতঙ্কিত না হন সেদিকে খেয়াল করতে হবে। আরেকটি বিষয়, আমাদের নিজেদের কাজে অবশ্যই সৎ হতে হবে। এমন দূর্যোগের সময়েও অনেকেই স্বার্থের টানে অনিয়ম করছে। প্রধানমন্ত্রীর আদেশের প্রতি সম্মান করে আর সর্বপরি দল, মত নির্বিশেষে কাজ করতে হবে। তবে আশা করি মহামারী পরবর্তী সময়ে আমরা দূর্ভিক্ষের সম্মুখীন হব না। এ লক্ষ্য রেখেই কৃষির গতি ধরে রাখার জন্য কাজ করতে হবে। তাহলেই আবার আমরা নতুন সুস্থ সকাল দেখতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

ড. গোপাল সাহা
সহযোগী অধ্যাপক, কৃষি অনুষদ, পবিপ্রবি

বাংলাদেশের নির্ভরতা কৃষির উপরে অনেকাংশে। সাধারনত এমন হয় যে কৃষকরা উৎপাদন করে আর গ্রহিতারা কেনে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে এই দুই এর মাঝের মধ্যস্থতাকারীদের সংকটে সাপ্লাই চেইন টা কে ব্যাহত করছে । এতে ফসল উৎপাদিত হলেও গ্রাহক পর্যন্ত আসছে না ঠিক ভাবে। ন্যায্যমূল্যও পাচ্ছে না তাই কৃষক। খামারীরা দুধ ফেলে দিচ্ছে এমন বিষয় কিছুটা। তাছাড়াও কৃষি উপকরণ যেমন বীজ, সার এগুলোর প্রাপ্যতাও অনেকাংশে ব্যাহত হচ্ছে। যা কৃষি কাজের অন্তরায়। এদিকে হাওড় অঞ্চলের ৭০ ভাগের উপরে ধান কাটার উপযুক্ত হয়েছে। সরকার কর্তৃক কৃষি যান্ত্রিকীকরণের উপর জোর দিলেও ভেজা মাটিতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার ব্যাবহার করা যায় না। তবে পোস্ট হারভেস্ট লস বা ফসল তোলার পরের নষ্ট না হওয়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে।সেখানে তরুণ সমাজের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মোতাবেক এগিয়ে আসা দরকার। তাছাড়াও আর কৃষক কে সরকার কর্তৃক ন্যায্যমূল্য প্রদানে মোবাইল ব্যাংকিং এ সরাসরি সুবিধা দেয়া যেতে পারে যা জেলা কৃষি অধিদপ্তর কর্তৃক পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষ্যে। এছাড়াও এমন সময়ে সমবায় ভিত্তিক কৃষি ব্যাবস্থাপনা অধিক ফলদায়ক হবে বলে আমার মনে হয়। তবে কৃষিকে প্রাধান্য দিলেই খাদ্যের কোনো সমস্যা হয়ত হবে না। আর নিরাপদ কৃষি নিশ্চিত করা অতি জরুরি। আশা করি দ্রুত এ অবস্থার পরিবর্তন হয়ে যাবে।