গণ বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠার পেছনের ইতিহাস

মো. রাকিবুল হাসান

গবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২:০৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২১ | আপডেট: ২:০৭:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২১ |

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস: গণ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যতম উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৮ সালের ১৪ জুলাই বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জরী কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদন নিয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। এই শিক্ষালয় বাঙালি সন্তানদের গৌঁরবের প্রতিষ্ঠান।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার লক্ষ্যে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল। স্বাধীনতার পর ওই ফিল্ড হাসপাতাল ঢাকার অদূরে সাভারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নামে যাত্রা শুরু করে।
পরবর্তীতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিস্টার কনসার্ন হিসেবে ১৯৯৮ সালের ১৪ জুলাই আধুনিক যুগের চাহিদা মেটাতে ও তরুণ-তরুণীদের উচ্চমানের শিক্ষা উপহার দিতে সাভারে প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়। এটিই বাংলাদেশের একমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যা দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে গঠিত একটি টীমের সম্মিলিতভাবে প্রস্তাবিত আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা কনসেপ্ট নোটের (ধারণাপত্র) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য: গণ বিশ্ববিদালয়ের উদ্দেশ্যই ছিল উচ্চতর শিক্ষায় শ্রেষ্ঠত্বের একটি কেন্দ্র তৈরি করা। যা জাতীয় ও বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করবে। সমাজের চাহিদা, সামাজিক বিকাশ ও মানবকল্যাণে সাড়া জাগাবে। উচ্চমানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি, দূরদর্শী নেতা ও আলোকিত নাগরিক তৈরি করবে। এতে করে ব্যক্তিরা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক এবং ব্যক্তিগত সম্ভাবনা অর্জন করতে পারবে।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল- সমাজের নারী সদস্যদের, গ্রামের ও স্বল্প আয়ের পরিবার থেকে শিক্ষার্থীদের, শহীদদের ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের শিক্ষাদানের সুযোগ করে দেওয়া।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক: গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করেছিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র পাবলিক চ্যারিটেবল ট্রাস্ট। যেটি ১৯৭১ সালে গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিষ্ঠিত হয়। গণস্বাস্থ্যের অব্যাহত সহায়তার সাথে সঙ্গতি রেখে, গণ বিশ্ববিদালয়ের ধারণাটি ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুসারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছিল।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্বপ্ন দেখেছিল একটি সমাজভিত্তিক (কমিউনিটি বেজড) মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করার। যা অবশেষে ১৯৯৮ সালে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নিয়েছিল। নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কার্যনির্বাহী বোর্ড গঠন হয়। অবশেষে একটি ট্রাস্টি বোর্ড (বর্তমানে ১৮ সদস্যের সদস্য) গঠন করা হয়েছিল।

শিক্ষা-কার্যক্রম: গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষাদাতাই পূর্ণকালীন, উচ্চ দক্ষ এবং সু প্রশিক্ষিত। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও আইনজ্ঞ কর্তৃক এখানকার একাডেমিক সিলেবাস প্রণীত৷ এ বিশ্ববিদালয় অর্পিত শিক্ষা অত্যন্ত উচ্চমানের হলেও এর শিক্ষাগত খরচ বাংলাদেশের অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক কম। এটি আসলে অর্ধেকেরও কম। এমনকি সাধারণ অভিভাবকের নাগালের মধ্যে।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সেমিস্টার ভিত্তিক (ছয় মাস)। তাই শিক্ষার্থীরা সহজেই মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করতে পারে। যা বিশ্বের উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে একই।
বর্তমানে ৪টি অনুষদের অধীনে ১৪টি বিভাগে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়।