গবি রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি, নয়া চেক সিগনেটরী উপাচার্য ও একাউন্স এন্ড ফিন্যান্সের ডেপুটি ডিরেক্টর

প্রকাশিত: ৮:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০ | আপডেট: ৮:১০:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০ |

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনকে প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট দিয়ে ২০০২ সালের ৩ আগস্ট গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। কিন্তু বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ড তার আচার-আচরণ দেখে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এ অবস্থায় ট্রাস্টি বোর্ড গোপনে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে তদন্ত করেন এবং জানতে পারেন তিনি মাস্টার ডিগিধারী বা গ্রাজুয়েটও নন। তিনি এইচএসসি পাস মাত্র। বায়োডাটায় ভুয়া মাস্টার ডিগ্রি দেখিয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়কে ধোকা দিয়ে আসছেন।

বিষয়টি টের পেয়ে রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেন তার অফিসে রক্ষিত ব্যক্তিগত ফাইল গায়েব করে দিয়েছেন। এক পর্যায়ে দেলোয়ার হোসেনকে ভাউসারসহ যে কোন অনুমোদন, ব্যাংক চেকে স্বাক্ষরসহ সকল অফিসিয়াল কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

গবির সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এনে ট্রাস্টি বোর্ডের সকল সদস্যের সম্মতিক্রমে শনিবার তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) ডা. লায়লা বানু ও একাউন্স এন্ড ফিন্যান্সের ডেপুটি ডিরেক্টর মো. আব্দুল কাদেরকে নতুন চেক সিগনেটরী নির্ধারণ করা হয়।

ঢাকার ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল ভবনের মেজর এটিএম হায়দার বীরউত্তম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গণ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের এক জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক হোসনে আরা শাহেদ, অধ্যাপক আলতাফুন্নেসা, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. লায়লা পারভীন বানু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জুমের মাধ্যমে জরুরী সভায় যোগ দেন ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, ড. সালেহ্ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদ্দাচ্ছের আলী, ওয়ালিউল ইসলাম এবং শিরীন পারভীন হক ।

জানা যায়, মো. দেলোয়ার হোসেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রায় ২০ বছর কর্মরত রয়েছেন। তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিরাপত্তা প্রহরী হিসাবে যোগদান করে অন্যের জমি দখল, জমির ভুয়া দলিল তৈরী, মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রতিপক্ষকে হয়রানী করা ও মারামারিতে পারদর্শিতা দেখিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর দৃিষ্ট আকর্ষণ করে নিজের স্থান পাকা পোক্ত করে নেন। তিনি নিজেকে এম এ ইন পলিটিক্যাল সাইন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পরিচয় দিয়ে অবস্থান উর্ধে নিতে থাকেন। এভাবে গণস্বাস্থ্যে ২০ বছর চাকুরী করেন। যার মধ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উচ্চতর প্রশাসনিক পদেও বিশেষ করে পরিচালক প্রশাসন/নির্বাহী পরিচালকের পদেও দায়িত্ব পালন করেন।

মো. দেলোয়ার হোসেন একদিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে প্রতারনা করে নিরাপত্তাপ্রহরী ইনচার্য থেকে উচ্চতর পদে থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারনা করেছেন। তিনি যখন গণ বিশ্ববিদ্যালয় যোগদান করেন তখন গণস্বাস্থ্যে তার বেতন ছিল ৪০ হাজার টাকা।

এছাড়াও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে থাকাকালীন সময়ও নারী কেলেঙ্কারীতে জড়িয়ে পড়েন। তার নিয়ন্ত্রণে কর্মরত অনেক নারীই নিগৃহীত হয়েছেন। তারা অনেকেই চাকুরী হারানো ও সামাজিকতার ভয়ে এসব প্রকাশ করতেন না।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের যৌন হয়রানীর বিষয়ও ইতিপূর্বে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি ২৬ মিনিট ও ৫ মিনিটের একাধিক অডিও রেকর্ড ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছে যাতে রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন এক মহিলাকে প্রলোভন দেখানোমূলক রেকর্ডকৃত টেপ পাওয়া গেছে।

ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক ফোনালাপ ফাঁসের পর রেজিস্ট্রারকে বরখাস্তের দাবি জানিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডকে লিখিত বিবৃতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। এছাড়া উনাকে বরখাস্ত ও ঘটনার তদন্তের দাবি জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন অগ্নিসেতু, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার ও ডিবেটিং সোসাইটি।

সার্বিক বিষয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, উনি অব্যাহতি চেয়েছেন, তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এ ব্যাপারে কেউ প্রমাণ নিয়ে আমাদের কাছে কমপ্লেইন করেনি।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন।