গবি শিক্ষার্থীদের ঈদের আনন্দ মাটি

প্রকাশিত: ৪:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০১৯ | আপডেট: ৪:০৮:অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০১৯ |

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দময় দিন। হ্যাঁ প্রতিবছর আনন্দ উল্লাসের বরাত নিয়ে ঈদ আসে আমাদের মাঝে। বছরে দুটো ঈদের মধ্যে ঈদুল ফিতরকে ঘিরে থাকে আমাদের নানা প্রস্তুতি। তবে এবার গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) তিন হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর ঈদ ভাবনাটা একটু ভিন্ন। ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে গবি শিক্ষার্থীরা ছুটে গেছে গ্রামের বাড়ি। অন্যদিকে ক্যাম্পাসে চলছে ইউজিসি অনুমোদিত উপাচার্য নিয়োগের জন্য আন্দোলন। গণ বিশ্ববিদ্যালয় (গবি) শিক্ষার্থীদের কেমন কাটছে এবারের ঈদ? পাঠকের কাছে সেই অভিমত -ভাবনা তুলে ধরেছেন আমাদের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) প্রতিনিধি মোঃ রাকিবুল হাসান

 

খাদিজা খাতুন (রুমা), সমাজবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম বিভাগ, ৩য় সেমিস্টার।

আসলে ঈদে আমার তেমন কোনো পরিকল্পনা থাকে না এবারো নেই। উপাচার্য আমাদের সকলেরই প্রয়োজন। আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। শিক্ষার্থীরা দেড় মাস যাবৎ আন্দোলন করছে, এই সমস্যা সমাধান হওয়া উচিৎ ছিল। যত দিন এ সমস্যা সমাধান না হবে চিন্তা তো থাকবেই৷ এটার সাথে ঈদের কোনো সম্পর্ক নেই কারণ ঈদের দিনটি আমার কাছের স্বাভাবিক দিনের মতোই এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত।

 

ইশতিয়াকুল হক, মেডিকেল ফিজিক্স এন্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ৪র্থ সেমিস্টার।

ঈদের দিন সাথে আমার জন্মদিন, গ্রামের বাড়ি থাকায় বন্ধুরা কেউ ট্রিট দেয়া নিয়ে প্যারা দিবে না এটা ভেবেই আমি খুশি। আমার ঈদের দিন কোনো প্লান থাকে না এবারো নেই। আমি পড়াশোনা নিয়ে তেমন মনোযোগী নয় তবে উপাচার্য আন্দোলন নিয়ে দুশ্চিন্তা কাজ করবে সবার মনেই এটা স্বাভাবিক। ক্লাস -পরিক্ষা বর্জন করেছি এর ফল সকলকেই ভোগ করতে হবে। আশাকরি, ঈদের পরই খুব দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ হবে এবং আমরা ক্লাস পরীক্ষায় ফিরতে পারব।

 

মোঃ আবির হোসেন হৃদয়, বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ, ২য় সেমিস্টার।

একজন মুসলিমের কাছে ঈদ হচ্ছে সবচেয়ে বড় আনন্দের একটি উৎসব। যা বয়ে আনে প্রশান্তির এক অনাবিল আনন্দ।

গত ২ মাস যাবৎ আমরা গবি শিক্ষার্থীরা নানান জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি । পবিত্র রমজান মাসেও উপাচার্য নিয়োগের জন্য আন্দোলন চলমান রেখেছি, তবে এখন পর্যন্ত সমাধান হয়নি । সামনে এতো বড় একটি দিন ঈদ, চাইতেও অনেক কিছু না চাওয়ার মতোন হয়ে গেছে। বিষণ্ণ কঠোরতার মাঝে ঈদটা কাটাতে হবে, তা বর্ণনা করে বোঝানোর মতো নয়। খুব ভালভাবে, খুশিতে কাটতো এই ঈদ যদি ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হত।

 

মাহতাবুর রহমান সবুজ, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং বিভাগ, ৮ম সেমিস্টার ।

কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং (সি.এস.ই) বিভাগের অষ্টম সেমিষ্টারের ছাত্র আমি।এত দিনে আমাদের ফাইনাল পরিক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার কথা।

অনেকগুলা সার্কুলার মিস হয়ে গেল, অনেকটা সময়ও। আমি মনে করি যারা অষ্টম সেমিষ্টারে রয়েছেন, সবারই একই সমস্যা। ইতিমধ্যেই আমরা সেশনজটে ভুগতেছি। সবাই হতাশাগ্রস্থ। তারপরও আমরা আশাকরি আন্দোলনটা সফল হবে দ্রুতগতিতে। চাচ্ছি বৈধ ভিসি’র অধীনে শেষ পরিক্ষাটা দিতে, একটি মূল্যবান সার্টিফিকেট অর্জন করতে।

 

রনি আহম্মেদ, রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগ, ৪র্থ সেমিস্টার ।

খুবই খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। আন্দোলনের চাপ ও ক্লাস-পরিক্ষার দুশ্চিন্তার কারণে ঈদের আনন্দ পাচ্ছি না। শপিং করতে পারি নাই ব্যাস্ততার কারণে।

 

শেখ খোদার নুর রনি, আইন বিভাগ, ৮ম সেমিস্টার ।

ভিসি নিয়োগ ও আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। ক্যাম্পাসে ভিসি নিয়োগের জটিলতার কারণে এখনো বাড়ি যেতে পারিনি। প্রতিদিনই ক্যাম্পাসে যেয়ে ভিসি নিয়োগের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোজ খবর নিতে হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়া সহজ কিন্তু পালন করা সত্যিই খুব কঠিন। আমি সাধারণভাবে জীবনযাপন করি, ঈদে কেনা কাটা করা হয়না।তবে ঈদের আগে ২-৪ জন (দই চার) পথশিশু কিংবা দরিদ্রদের জন্য নতুন কাপড় কেনা হয়, খাওয়া-দাওয়া করি। ছুটির দিনগুলো ঘুমাতে পছন্দ করি।

 

শর্মিলা ইসলাম, ফার্মেসি বিভাগ, ৫ম সেমিস্টার ।

দুশ্চিন্তায় কাটছে এবারের ঈদ। ভিসি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিন্ত হতে পারছি না। একটা সুন্দর সমাধান পেলে ক্লাসে ফিরতে চাই৷ পড়াশুনায় অনেক বড় একটা গ্যাপ পরে গেছে। সারাক্ষণ মাথায় শুধু এসবই ঘুর ঘুর করছে। ঈদের আগে সমাধান পেলে হয়ত খুব ভাল ভাবেই ঈদ কাটাতে পারতাম৷ আপাতত আমার মাঝে ঈদের কোন আমেজই কাজ করছে না।