চিকিৎসা সমস্যার সমাধান কোথায়?

ফারহানা ইয়াসমিন

শিক্ষার্থী,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ৩:১১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০ | আপডেট: ৩:১১:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০ |

আমাদের মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে একটি চিকিৎসা সেবা। আমাদের দেশে এই অন্যতম মৌলিক অধিকারের চিত্র কেমন?
উচ্চবিত্তরা না হয় টাকার জোরে প্রাইভেট হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিক গুলোতে যেয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে পারে। কিন্তু নিম্নবিত্তদের চিকিৎসা সেবা পাওয়ার একমাত্র ভরসা হলো সরকারি হাসপাতালগুলো।
কিন্তু আমাদের সরকারি হাসপাতালগুলোর বেহাল অবস্থা। রোগী হয়ে সেখানে গিয়ে প্রথমেই ধাক্কা খেতে হয় প্রচন্ড ভীড়ে। ঠেলাঠেলি মারামারি করে টিকিট সংগ্রহ করতে হয় রোগীর স্বজনদের।
হাসপাতাল গুলোর এদিক ওদিক তাকালেই নোংরা পরিরেশে শরীর ঘীন ঘীন করে উঠবে। আর বাথরুমের অবস্থা না বলায় শ্রেয়। তারপর ডাক্তারের খোঁজ নেওয়ার পালা। প্রায় সময় ডাক্তাদেরকে উনাদের চেম্বারে পাওয়া দুষ্কর, যদিও বা ডাক্তার পেলেন, তিনি আপনার পোশাক -আশাক পর্যবেক্ষণ করবেন। আপনার গায়ের জামা কাপড়ের উপর নির্ভর করবে আপনার সাথে ডাক্তারের আচার আচরণ। আপনি অসুখের কথা বর্ণনা শুরু করেছেন। এক ফাঁকে ডাক্তার কিন্তু আপনাকে বলে ফেলবেন ‘প্রাইভেট চেম্বারে গেলে আরও ভালো করে দেখে দিতে পারতাম। ’ আপনি তখন জানালেন আপনার আর্থিক সমস্যার কথা। ডাক্তার ততক্ষণে ব্যবস্থাপত্রে আপনার ঔষুধ লিখে ফেলেছেন। আপনি কিন্তু অসুখের কথা পুরো বলার আর সুযোগ পেলেন না। ব্যবস্থাপত্র হাতে নিয়ে হাপাতালের ডিসপেনসারিতে গেলেন। সেখানে ঔষূধ নেই। হাসপাতালের বারান্দায় থাকতেই আপনাকে ঘিরে ধরবেন বিভিন্ন কোম্পানীর মেডিকেল রিপ্রেজেনটেইটিভ। কোন কোম্পানীর কোন ঔষুধ ডাক্তার লিখেছেন তা দেখার জন্য আপনার ব্যবস্থপত্র তাদের হাতে হাতে ঘুরবে কতক্ষণ। কেউ কেউ আবার ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলবেন ফোনে।

এবার একটু রোগ নির্ণয়,পরীক্ষা নিরীক্ষার কথায় আসি। ডাক্তার ব্যবস্থাপত্রে দরকারী (অনেক সময় দরকার ছাড়াও) কয়েকটা টেস্টের নাম লিখে পাঠায় দেন তার সাজেস্ট করা ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করে রিপোর্ট আনার জন্য। যদি আপনি সেখান থেকে পরীক্ষা না করান তাহলে আপনি মরেছেন। ডাক্তার রিপোর্ট দেখবেন না। আর দেখলেও বলবেন রিপোর্টে ভুল আছে। তারপর যদি সরকারি হাসপাতাল থেকে টেস্ট করাতে চান তাহলে লাগবে দালাল। পরিচিত কেউ না থাকলে ঘন্টার পর ঘন্টা সিরিয়ালে দাড়িয়ে থাকেও পাবেন না কোনো ঠায়। খোঁজখবর নিলে জানবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সপ্তাহে একদিন অথবা দুইদিন কেবল চেম্বারে বসেন। আর বাকি সময় কাটান নিজস্ব ক্লিনিকে বসে।

কেবল ডাক্তারদের কথা বলি কেনো? হাসপাতালের সেবক-সেবিকা ও কর্মচারীরাও কম কিসে! তাদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর। যে কারণে হাসপাতালের এক্সরে মেশিন, ইসিজি মেশিন প্রায় বিকল থাকে। প্লাস্টার ও ড্রেসিং অদক্ষ নার্স ও ওয়ার্ড বয় দিয়ে করা হয়। এর পাশাপাশি আপনার সাথে চলবে খারাপ ব্যবহার, কর্তব্য পালনে অবহেলা করে আপনাকে অতিষ্ঠ করা হবে। এক সময় কোমল গলায় কোনো নার্স বা ওয়ার্ড বয় আপনাকে বলবে; ( প্রাইভেট হাসপাতাল/ ক্লিনিকের নাম উল্লেখ করে) ঐ হাসপাতাল অথবা ঐ ক্লিনিকে গেলে আপনার ভালো চিকিৎসা হত।

এই সবই বললাম জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের অভিজ্ঞতা থেকে।
আমাদের দেশে হাজার হাজার লাখ লাখ টাকা খরচ করে যারা বড় বড় প্রাইভেট হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা নেন, তারাও কতোটা সঠিক চিকিৎসা পান? কোথায় গেলে পাবো চিকিৎসা ও চিকিৎসক? এই চিকিৎসা সমস্যার সমাধান কোথায়? সারা দেশের মানুষের কাছে বর্তমানে এটি জ্বলন্ত জিজ্ঞাসা। রোগ যা-ই হোক, যে বয়সেরই হোক, দুর্দশা চরমে, ভোগান্তি মাত্রাতিরিক্ত।