ছোটগল্প-“রিক্ততা থেকে পক্ততা”

ফারহানা ইয়াসমিন

শিক্ষার্থী,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২০ | আপডেট: ৯:৩২:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২০ |

১৪ বার ইন্টারভিউ দেওয়ার পরেও আমার চাকুরি হয় নি। ১৫ বারের সময় আর কোন ইন্টারভিউ জন্য আবেদন করিনি। আমি হোসাইন। ডিগ্রি পাস করার পরও এখনো বেকার। চাকরির কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষমেশ ঢাকা শহরের একটা ছোট হোটেলে থালা-বাসন ধোঁয়ার কাজ শুরু করলাম। অনেকে অনেক রকম কথা বলেছিলো। একজন তো বলেই বসলো তুমি তো সমাজের কলঙ্ক। ডিগ্রি পাশ করে কেউ এসব নীচু কাজ করে। এসব কথা শুনেও আমি দমে যায় নি। মন দিয়ে পরিশ্রম করা শুরু করলাম। সপ্তাহে সাত দিন-ই আমার কাজ ছিলো। কলেজে পড়ার সময় আমার এক শিক্ষক বলেছিলেন –“জীবনে বিজয়ী হতে চাইলে কাজের মাধ্যমে হও, বির্তকে নয়”। তাই সবসময় মনোযোগ সহকারে কাজ করতাম।

মাসখানেক যাওয়ার পর আমার কাজের পাশাপাশি, হোটেলে আগত কাস্টমারের সংখ্যা বাড়তে লাগল। এবং তখন সবাই খুব ব্যস্ত থাকতো। তাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য আমিও আগত অতিথিদের খাবার পরিবেশন করতাম। এতে দোকানের মালিক আমার উপর অনেক খুশি হতেন।
চাকরির বয়স যখন এক বছর, তখন আমি দোকানের সব কাজই করতাম এবং মালিকের খুব বিশ্বস্ত কর্মচারী হয়ে উঠলাম।
ওনার দেওয়া সম্পদ নিজের না মনে করে, ওনার রেখে যাওয়া আমানত মনে করে কাজ করতাম।
চাকরির বয়স যখন ১৩ বছর, তখন ব্যাংকে আমার অনেক টাকা গচ্ছিত হলো। এরপর আমি নিজেই ছোটখাটো একটা হোটেলের মালিক হয়ে গেলাম। তারপর আস্তে আস্তে আমার ছোট ব্যবসাটা ক্রমেই বড় হতে লাগল।

এখন আর আমি কারো কাছে চাকরির ইন্টারভিউ নিয়ে যাই না বরং সবাই আমার কাছে চাকরির জন্য আসে। কারণ একটাই, আমি ছোট থেকে শুরু করে আজ এত বড় হয়েছি। পৃথিবীর সবাই বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু বড় হতে গিয়ে তারা শুধু বড় কাজগুলোকেই প্রাধান্য দেয়। ছোট কাজগুলো করে না। যার কারণে, তারা সবসময় ছোট থেকে যায়।
তাই আপনাদেরকে বলবো আপনারা ছোট কাজগুলো ছোট মনে না করে কাজ করা শুরু করুন। হয়তো এই ছোট কাজটার মধ্যেই আপনার বড় হওয়ার স্বপ্নটা লুকিয়ে আছে। আর এভাবেই আমরা,আত্মবিশ্বাস আর পরিশ্রম দিয়ে রিক্তক্তা থেকে পক্ততা ছড়াতে পারি।