তালেবানদের উথান, সীমান্তবর্তী দেশগুলোর জন্য চিন্তার কারণ

জাফরুল ইসলাম

শিক্ষার্থী ও কলামিস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২১ | আপডেট: ৮:৩৬:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২১ |

আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালের এক ঘোষণার মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা বলেন। সামরিক সময়ে সৈন্য প্রত্যাহার কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নির্বাচনী প্রচারের সময় আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করার কথা বলেন। সর্বশেষ এক ঘোষণার মাধ্যমে তিনি বলেন ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ন্যাটোর সকল সৈন্য প্রত্যাহার করা হবে। তারই ধারাবাহিকতায় পর্যাক্রমে ন্যাটোর সৈন্য প্রত্যাহার অব্যাহত রয়েছে। এই সৈন্য প্রত্যাহার করার ফলে আফগানিস্তানে যে একটা গৃহযুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে তা তাঁরা ভালো করেই জানত। আর তাই ট্রাম্পের সাথে তালেবানদের বৈঠক হয়, চুক্তি স্বাক্ষর হয় কিন্তু আদৌ তা সফলতার মুখ দেখতে পারে নাই। স্মরণ করতে পারেন ১৯৯৬ সালের কথা যখন তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ছিল তখন আফগানিস্তানের অবস্থা ছিল শোচনীয়। ভয়াবহ এক পরিস্থিতি সেই সময় পুরো আফগানিস্তান জুড়ে বিরাজ করেছিল। সাধারণ মানুষদের ছিলনা কোন স্বাধীনতা যেকোনো সময় মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। আর এই তালেবানদেরকে সর্বতোভাবে সাহায্য করেছিল পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়া। তিনি দেশের গোয়েন্দা সংস্থা আই এস আই এর মাধ্যমে তালেবানদেরকে অস্ত্র সরবরাহ করতো। এই অস্ত্রের চালান গুলো আসত পশ্চিমা বিশ্ব থেকে যাদের লক্ষ্য একটাই সোভিয়েতদের পতন। আপনারা লক্ষ্য করতে পারেন সেই সময় কিন্তু চীন-পাকিস্তান এবং আমেরিকার মধ্যে মিত্রতা বিরাজ করেছিল। ফলে এই অঞ্চলে আমেরিকা তার মিত্রদের কে দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাছিল করতে পেরেছিল। এ তো গেল পূর্ববর্তী আলোচনা বর্তমানে ও কিন্তু একই চিত্র আমরা দেখতে
পাচ্ছি। যে চিত্র বিরাজ করেছিল ১৯৮৯ সালে যখন সোভিয়েতরা আফগানিস্তান থেকে চলে গেছিল। প্রেক্ষাপট কিন্তু একই, কারণ সে সময় লেজ গুটিয়ে পালিয়ে ছিল সোভিয়েতরা আর বর্তমানের ন্যাটোর সৈন্যরা পালিয়ে যাচ্ছে । ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল তালেবানরা আমেরিকার মাধ্যমে। সেই তালেবানরা বর্তমানে ক্ষমতা গ্রহণ করছে তাদের দেওয়া উপায় অবলম্বন করে। আমেরিকার এমন সিদ্ধান্তের কারণে বিপাকে পড়েছে সীমান্তবর্তী দেশ গুলো। আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন এশিয়ায় উদীয়মান অর্থনীতি সম্পন্ন দেশ কিন্তু চীন। আর এই চীনের সাথে রয়েছে পাকিস্তানের মিত্রতা। অন্যদিকে ভারতের সাথে রয়েছে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ চীনের। যার ফলে ন্যাটো সৈন্য প্রত্যাহার করার ফলে তার সবথেকে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে ভারতের উপর। কারণ কাশ্মীর নিয়ে যে বিরোধ রয়েছে সেটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চীনে অঞ্চলের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। কারণ চীনের রয়েছে স্বপ্নের, ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্প। যা বাস্তবায়ন করতে চীন যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত । কারণ এই প্রকল্পের মাধ্যমে চীন মধ্য এশিয়া সহ ইউরোপের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবে। চীন যদি তাদের এই প্রকল্প সফল করতে পারে তাহলে এ অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব ক্ষুন্ন হবে যা আমেরিকা কখনো হতে দিবে না। অন্যদিকে ভারত রয়েছে চরম উদ্বিগ্নে কারণ আফগানিস্তানে যদি গৃহযুদ্ধ শুরু হয় তাহলে ভারতের অভ্যন্তরে ও এই যুদ্ধের রেশ বিরাজ করবে। পাকিস্তানের তো রয়েছে চীন। কিন্তু ভারতের মিত্র আমেরিকা যেখানে টিকতে পারল না সেখানে ভবিষ্যৎ একটা আশঙ্কা থেকে যায় ভারতের জন্য। অন্যদিকে তালেবানদের এমন উথানের ফলে আফগানিস্তানে।চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে তালেবানরা আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একের পর এক জেলাগুলো দখল করছে। যে অস্ত্রগুলো ন্যাটোর সৈন্যদের বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করছে। আবার এই গৃহযুদ্ধের বলে পাশ্ববর্তী দেশগুলোতে শরণার্থী সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই এমন অবস্থা কখনো কাম্য হতে পারে না। বর্তমানে জাতিসংঘকে কাজে লাগিয়ে একটা সুষ্ঠু সমাধান অতি প্রয়োজন। কারণ এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো।