দেশে ফিরেও বসে নন কোভিড যোদ্ধারা

আসিক আদনান ডিবিবি

রাবি প্রতিনিধি :

প্রকাশিত: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, মে ১২, ২০২০ | আপডেট: ১১:৫৫:পূর্বাহ্ণ, মে ১২, ২০২০ |

‘চীনের মাটিতে করোনা প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছিলেন। তবে পরিবারের দুশ্চিন্তা আর বারবার তাগাদায় দেশটির ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির গবেষণা ল্যাব ফেলে ফিরতে হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী কাজী পরাগকে। দেশে ফেরা গত ৫ ফেব্রুয়ারি।

তবে দেশে ফিরে বসে থাকেন নি। দেশে যখন করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকছে এবং নতুন নতুন ল্যাব এর প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে তখনই মলিকুলার বায়োলজিস্ট বন্ধু ও সহপাঠীদেরকে সাথে নিয়ে সেচ্ছাসেবক হিসাবে সামনে এগিয়ে এসেছেন।

ঝুঁকি জেনেও করোনা পরীক্ষায় ব্যবহৃত রিয়েল টাইম পিসিআর পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া থেকে শুরু করে করোনা পরীক্ষার কাজ করে চলছেন এখনও। যার পুরোটাই স্বেচ্ছাশ্রম।

শুধু কাজী পরাগ নন, মলিকুলার বায়োলোজিতে দক্ষ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমানসহ আরও কিছু চিকিৎসকে সাথে নিয়ে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুদ্ধ করে চলছেন করোনার সাথে।

তাদের একজন রাবির সাবেক শিক্ষার্থী রওশন আলী অয়ন। অয়ন জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজের করোনা শণাক্তকরণ ল্যাব থেকে শুরু হয় তাদের কাজ।

পরবর্তীতে রংপুর CMH, বগুড়া CMH, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে এবং এখন নোয়াখালী মেডিকেল কলেজসহ দেশের ৮ টি ল্যাবের সাথে কাজ করছেন তারা।

জানাচ্ছিলেন, আমাদের দেশের ডাক্তার এবং ল্যাব টেকনোলজিস্টরা কোভিডি 19 এর জন্য RT-PCR টেস্ট করা হয় এই টেকনোলজি বা এর জন্য যে মলিকুলার বায়োলজির জ্ঞান প্রয়োজন তা তাদের জানা নেই। আমাদের কাজ হচ্ছে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া এবং ল্যাবে তাদের সাথে কাজ করে তাদের দক্ষ হিসাবে গড়ে তোলা।

ঝুঁকি জেনেও কেনো আসছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে কাজী পরাগ বলছিলেন, আমার কাছে সবসময় মনে হয়েছে যে পড়ালেখা আমি দেশে এবং বাহিরে শিখেছি সেটা আমার দেশের জন্য কাজে লাগতে হবে।

একটা নতুন ল্যাবে কাজ শুরু হওয়া মানে নতুন করে এর কিছু টেস্টের সংখ্যা বাড়া। মূলত টেস্টের সংখ্যা বাড়লে আমারা দ্রুত করোনার এই সমস্যা টা সমাধান করতে পারবো।

প্রথমে পরিবার সাপোর্ট করতো না এই শিক্ষার্থীদের। বিশেষত কাজী পরাগের মা কোনো ভাবেই এই রিস্কি কাজে আসার অনুমতি দিতে চাননি। শুধু মাকে একটা কথা বলতাম যে আমাদের এখন দেশের প্রয়োজন। মা এখন আগের মতো টেনশন করে না। উনি প্রতিদিন আমাকে এখন অনুপ্রেয়না দেন।

কিছু স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত আছে এই স্বেচ্ছাসেবক দলের। পর্তুগালের লিসবন ইউনিভার্সিটির জহুরুল ইসলাম মুন, চীনের হুয়াজং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দম্পতি সামিউল ইসলাম ও রাজিয়া সুলতানা মৌসহ আরও ৫ জন গবেষক প্রস্তুত আছেন সেবা দেওয়ার জন্য।

এছাড়া বিভিন্ন ল্যাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের পোস্ট ডক্টরাল ফেলো বিদেশী গবেষক ড. রিচার্ড মারলোসহ ৫০ এর অধিক সেচ্ছাসেবক দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।

স্বেচ্ছাসেবকরা জানাচ্ছেন, মূলত আমি দেশের মলিকুলার বায়োলজিস্ট দের আহবান দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে সামনে এগিয়ে আসার জন্য।আমার বিশ্বাস যে এভাবে সবাই এগিয়ে আসলে করোনার এই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতে সময় লাগবে না।