ধর্ষণের গতি যেন অপ্রতিরোধ্য!

মো. রিপন মন্ডল

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ৮:০৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২০ | আপডেট: ৮:৩১:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৫, ২০২০ |

ধর্ষণ সমসাময়িক সময়ে অতি আলোচিত একটি বিষয়। প্রতিদিন কেউ না কেউ ধর্ষণের কিংবা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে।পত্রিকা, টিভি নিউজ কিংবা অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রথমেই চোখে পড়ে ধর্ষণের মতো অত্যন্ত নৃশংসতামূলক ঘটনা। ধর্ষণের হার যেন বাড়ছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে যা কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করার নয়।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর হিসাব অনুযায়ী,২০১৯ সালে এক হাজার ৪১৩ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৩২ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে দ্বিগুণ যা ভয়াবহ।২০১৭ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮১৮ জন নারী। অন্যদিকে চলতি বছরের গতমাসে ২৭ দিনে ধর্ষণ হয়েছেন ৩১ জন নারী। অর্থাৎ ধর্ষক ও ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েই চলছে লাগামহীনভাবে।

ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা কিংবা ধর্ষণের পর হত্যার মতো নৃশংসতামূলক ঘটনাগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিচারের আওতায় এনে এর প্রতিকার করা বর্তমানে খুবই জরুরি। অপরাধ সংঘটনের পর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধী কিংবা অপরাধচক্রকে গ্রেফতার করতে হবে যেমনটি করা হয়েছে সিলেটের এমসি কলেজের ধর্ষণকারীদের।শুধু গ্রেফতার করেই যেন এর শেষ না হয়, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে। একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা প্রচারিত হয় কিন্তু অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা প্রচারিত হয় না – এটি ধর্ষণ হ্রাসের প্রধান অন্তরায়। এছাড়াও ধর্ষণের আরেক নাম পর্ণোগ্রাফি আসক্ত। বর্তমান যুব সমাজের ৭০% ব্যক্তি পর্ণোগ্রাফি আসক্ত।এই আসক্তির কারণে এক সময় তারা নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং নিজের যৌন চাহিদা চরিতার্থ করতে ধর্ষণের মতো নৃশংস ঘটনা ঘটাতেও পিছপা হয় না।

প্রত্যেক ধর্মেই ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলো নিষিদ্ধ; বরং প্রত্যেক ধর্ম নারীকে সম্মান করতে শেখায়। এজন্য যুবসমাজকে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাছাড়াও বর্তমান সময় অধিকার হরণের নয়, অধিকার আদায়ের সময়। সমান‌ অধিকারের সময়। নারীর ক্ষমতায়নের সময়। এ যুগেও নারী কেন ধর্ষিতা হবে, কেন যৌন হয়রানির শিকার হবে? নারী মানেই কারো মা,কারো বোন,কারো স্ত্রী। কোন মা-বোন কিংবা স্ত্রী যাতে আর ধর্ষণের শিকার না হয় সেজন্য ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবাইকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তবেই হয়তো শব্দভাণ্ডার থেকে “ধর্ষণ” নামক শব্দটি একদিন মুছে যাবে ইনশাআল্লাহ।