নারীর নিরাপত্তা আসলে কোথায়

মোঃ নাঈম বাবু

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২১ | আপডেট: ১২:৩১:অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২১ |

নারী মা, বোন, মেয়ে আবার বউ তাহলে নারীর মাঝে নিশ্চয়ই কোনো মহান কিছু রয়েছে। তা না হলে হয়রত আদম (আঃ) জান্নাতে একাই থাকতে পারতেন। কিন্তু তিনি যখন একাকিত্ব বোধ করলেন তখন আল্লাহ্ তায়ালা বুঝলেন তাঁর একটা সঙ্গী দরকার। তখন আল্লাহ্ তায়ালা মা হাওয়াকে সৃষ্টি করলেন এবং হযরত আদম (আ.) এর সামনে জান্নাতি টুলের উপর বসে রাখলেন।হযরত আদম (আ.) তখন ঘুমাচ্ছিলেন। যখন তাঁর ঘুম ভাঙ্গলো দেখলেন একটা সুন্দরী রমনি (হাওয়া) তাঁর সামনে বসে আসেন তিনি ত দেখেই চোখের পলক সরাতে ভুলে গেলেন। আল্লাহ তায়া’লা বুঝলেন তাঁর সৃষ্টির উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। আল্লাহ্ তায়ালা তাঁদের শান্তিতে জান্নাতে বসবাস করার জন্যে সকল ব্যবস্থা করলেন । তিনি বললেন তোমার ঐ গন্ধম ফলের গাছের কাছে যেও না এবং ঐ গাছের ফল ভুলেও খাবে না। মা হাওয়া কিন্তু একটা পযার্য়ে এসে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে গাছের ফলটা খেলেন বাবা আদম কেও খাওয়ালেন। যার ফলাফলে আজ আমরা জান্নাতে থেকে পৃথিবীতে এসেছি। পৃথিবীতে এসে অনেক কাঁন্নার পরে আল্লাহ তায়া’লা তাঁদের ক্ষমা করে দিলেন। পৃথিবীতে আবারও তাদের মিলন ঘটালেন। তখন কিন্তু হযরত আদম (আঃ)
হাওয়াকে বোকা দেন নি, মারা-মারি করেন নি, তাঁর সাথে ঝগড়া করেন নি বরং দুজন ধৈর্য ধরে ঠান্ডা মাথায় আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীটাকে দেখার সুযোগ করেছেন। সেই থেকে আজও অব্দি আমাদের অবস্থান এমন পযার্য়ের এসেছে যে স্বর্গীয়-ময় পৃথিবীটাকে নরকে পরিণতি করেছি।
আসল কথায় আসা যাক, বর্তমান পরিবেশে একটা মেয়ের নিরাপত্তা আসলে কোথায়?
পত্রিকার পাতা খুলেলই দেখতে পাই, বাবা হাতে মেয়ে ধর্ষিতা হচ্ছে বছরের পর বছর ; ফুবা ভাতিজিকে ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা করলেন। ভাই তার বোনকে জোর করে ধর্ষণ করেছে ; শিক্ষক আখেরাতের ভয় দেখিয়ে একটা নয় এগারটা ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ; টাকার বিনিময়ে স্বামি তার বন্ধু কে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করালেন ; ভালোবাসা / প্রেমের নামে একাধিক বার ধর্ষণের শিকার হয়েছে কিশোরী ; স্বামী তার স্ত্রীর গলা কেটে হত্যা করেছে। ছয় বছরের শিশুর যৌনি কেটে ধর্ষণ করলেন চাচা। বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা, তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এখানে দেশে বর্তমানে ‘ধর্ষণের সংস্কৃতি’ বিরাজ করছে। ‘ধর্ষণের সংস্কৃতি’ বলতে এমন এক সংস্কৃতিকে বোঝানো হয়, যেখানে সমাজের প্রত্যেক নারী, শিশু কিংবা কিশোরী বালিকা ধর্ষণের মতো পরিস্থিতির শিকার হতে পারে। শুধু পুলিশ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০১৯ সালে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫৪০০টি। এ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ধর্ষণের হার ৩.৮০ অর্থাৎ প্রতি ১ লাখ নারী-নারীর মধ্যে প্রায় ৪ জন নারী-শিশুকেই ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে, যা স্মরণকালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। আমরা দেখতে পাই ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০১৮ সালে প্রতি লাখে ধর্ষণের হার যথাক্রমে ০.৩৯ জন, ২.৩৭ জন, ২.৩৮ জন ও ২.৪৫ জন। শুধু পরিসংখ্যান বিবেচনায় ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে ধর্ষণের এ হার বাড়ার পরিমাণ প্রায় প্রতি লাখে ১.৩৫ জন বা এক-তৃতীয়াংশ (বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ওয়েবসাইট ২০১৯) এছাড়াও ২০১৯ সালেও তুলনায় ২০২০ সালে ধর্ষণের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে যা প্রায় ৩.৮০ জন.
ডয়েচে ভেলের তথ্যানুযায়ী, বিদেশি সমীক্ষা মোতাবেক বাংলাদেশে ধর্ষণের হার প্রতি লাখে ১০ জন এবং সমগ্র বিশ্বে আমাদের অবস্থান ৪০তম। ধর্ষণের বেলায় আমাদের থেকে অধঃপতিত দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা, লেসোথো, বোতসোয়ানা, সোয়াজিল্যান্ড ও সুইডেনে ধর্ষণের হার যথাক্রমে প্রতি লাখে ১৩২ জন, ৯৩ জন, ৮৩ জন, ৭৮ জন ও ৬৩ জন (ডয়েচে ভেলে, ৬ অক্টোবর ২০১৯)। কিন্তু আমার মতে, এসব দেশের মধ্যে বেশির ভাগ আফ্রিকার দারিদ্র্য ও গৃহযুদ্ধপীড়িত দেশ। যদিও পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতে প্রতি লাখে ৮ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়, যা বাংলাদেশের তুলনায় কম।
বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৪টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ পায় না বা প্রকৃতপক্ষে প্রকাশ করা হয় না এবং তার কারণও সামাজিক। ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ পেলে পুরুষের যতটা মর্যাদাহানি হয়, তার চেয়ে ঢের বেশি মর্যাদাহানি হয় ক্ষতিগ্রস্ত নারীর।
তাহলে নিরাপত্তা কোথায় একটা মেয়ের।
আমি মনে করি প্রত্যেক মেয়ে নিরাপদে থাকবে যদি প্রত্যেক ছেলে-মেয়ে নিজ নিজ ধর্মকে অনুসরণ – অনুকরণ করে। ধর্মের বাণীকে হৃদয়ে স্থাপন করে সেই অনুসারে জীবন পরিচালনা করে। তাহলে সমাজে, রাষ্ট্রে মেয়েদের নিরাপত্তা হবে।
এছাড়া আপনি যতই আইন তৈরি করেন প্রয়োগ করেন কাজ হবে না। কারণ সামাজে যখন নগ্নতা ফ্যাশন হবে তখন ধর্ষণ একটা সামাজিক রোগে পরিণতি হবে, যা ক্যান্সারের চেয়ে ভয়াবহ রুপ নিবে। যেমন, নিয়েছিলো ২০০২ সালে দিকে সোনার বাংলায় মেয়েদের মুখে সালফিউরিক এসিড নিক্ষেপ করা।
আমি মনে করি ধর্ষণ,নারী ও শিশু নির্যাতনের শীর্ষ দেশ হবে বাংলাদেশ আয়তনে ও জনসংখ্যা দিক থেকে।
এর কারণ জালবায়ু এবং প্রধান কারণ পশ্চিমা সংস্কৃতি, ভারতীয় টিভি চ্যালেন, পর্নোগ্রাফি ভিডিও, নগ্নতা, আধুনিক ফ্যাশন , নেই কোনো ধর্মের বিশ্বাস , বাপ দাতার ধর্ম অনুযায়ী চলে নামে মাত্র হৃদয়ে ধর্মের কোনো ভয় নেই , নেই লজ্জা, নেই লোকের ভয়। আমাদের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলেও এখানে হিন্দু,বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, ইহুদি ধর্মের লোক ও বসবাস করে। মোটামুটি সব কয়টা ধর্ম সম্পর্কে ধারণা আছে; যেহেতু আমার দেশ একটি অসাম্প্রদায়িক ধর্মের দেশ সুতরাং সকল ধর্মের বাণী নিচে দেওয়া হলোঃ
ইসলাম ধর্মে হয়রত মোহাম্মদ (স.) বলেছেন “ভুল করে একবার কোনো নারীর প্রতি চোখ পড়লে দ্বিতীয় বার যেনো না তাকায়। যার একটা মেয়ে আছে দুনিয়াতে, তার জন্য আখেরাতে একটা জন্নাত রয়েছে।”( সহি-বুখারি ও সহি মুসলিম )
এছাড়া রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো ইরশাদ করেন, ‘স্ত্রী জাতির পর্দায় গুপ্ত থাকার সত্তা। কিন্তু যখনই তারা পর্দার বাহিরে আসে, তখন শয়তান তাদের দিকে ঝুঁকে।’ (তিরমিযী)
বৌদ্ধ বলেছেন, “অন্যায় ভাবে কোনো নারীর প্রতি যেনো না তাকায়”.
যিশু বলেছেন “যে নারীর দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকলো সে যেনো তার সাথে যিনা করলো তাকে প্রভুর কাছে হিসাব দিতে হবে এবং কঠিন শাস্তি পেতে হবে।”(বাইবেল)
হিন্দু ধর্মের শ্রীকৃষ্ণ কিন্তু নারীকে সম্মানের কথা বলেছেন তিনি কিন্তু রাধাকে বিয়ে করেন নি সম্মানের জন্যে তিনি নিজেই ভগবান হয়ে নারীর সম্মান দিয়েছেন।” (গীতা) এসব ধর্ম বাণী তআমার দেশেই রয়েছে।
তাহলে আজ কেনো আমার দেশে এত ধর্ষণের শিকার হয়। কারণ কোনো ধর্মের প্রতি কারু বিন্দু মাত্র ভয় নেই । আপনি যে ধর্ম পালন করেন সেই ধর্ম অনুযায়ী যদি চলেন তাহলে অন্তরে আল্লাহ, ঈশ্বর , প্রভুর প্রতি আমার ভয় সৃষ্টি হবে।
শুধু নারী জাতিকে কেনো সৃষ্টির প্রত্যেক প্রাণীর প্রতি নির্যাতন করতে কেউ সাহস পাবেন না।
গাছের বেড়া ফল খালে আইন কিছু করতে পারবে না। সুতরাং ধর্মের ছায়াতলে থাকলে নারী সহ সকল প্রাণী নিরাপত্তা পাবে ইনশাআল্লাহ্।