পাবিপ্রবির অধ্যাপক ড.রঞ্জিত বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায়

ডিবিবি ডিবিবি

পাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:০৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২০ | আপডেট: ১০:০৮:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২০ |

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ড.রঞ্জিত কুমার বিশ্বাস বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় প্রশংসনীয় অবস্থানে রয়েছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, সাইটেক স্ট্র্যাটেজিজ কর্পোরেশন ও নেদারল্যান্ডসের প্রকাশনা সংস্থা এল্সেভিয়ার-এর তিনজন গবেষক প্রকাশিত বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন ড. রঞ্জিত কুমার বিশ্বাস।

বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের তালিকা PLOS Biology জার্নালে প্রকাশ হয়। এই তালিকায় গবেষণা প্রকাশনার উদ্ধৃতি সংখ্যার ভিত্তিতে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার বিজ্ঞানী স্থান লাভ করেছেন। সংশ্লিষ্ট গবেষণায় বিজ্ঞানের ২২টি শাখার ১৭৬টি উপশাখায় এই বিজ্ঞানীদের বিভক্ত করা হয়েছে। এই তালিকার ধাতববিদ্যা ও খনিবিদ্যা উপশাখার সেরা ২৭ হাজার ৫৬৮ জন বিজ্ঞানীর মধ্যে রাবির ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগ থেকে সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. রঞ্জিত কুমার বিশ্বাস ২৮৪তম স্থান অধিকার করেছেন।

অধ্যাপক রঞ্জিত কুমার বিশ্বাস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও ফলিত রসায়নে মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি অর্জন করেন। ১৯৮০ সালে ধাতববিদ্যা বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। একই বছরে তিনি রাবির ফলিত রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন ও ১৯৯৩ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। এরপর অবসর গ্রহণের পর ২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ইতোমধ্যে ড.রঞ্জিতের দেশ-বিদেশের শতাধিক জার্নালে গবেষণালব্ধ প্রবন্ধ প্রকাশ হয়েছে। তিনি ১১টি পিএইচডি ও ৩৪টি মাস্টার্স পর্যায়ের গবেষণা তত্ত্বাবধান এবং ৩টি গবেষণা প্রকল্প সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটি ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সের আজীবন সদস্য। তিনি ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন পুরস্কার অর্জন করেন।

প্রিয় শিক্ষকের এমন সাফল্যে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা আনন্দের সাথে তাঁকে অভিনন্দিত করেন।

রসায়ন বিভাগের ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থী আলিউল ইসলাম বলেন, প্রফেসর ড. রঞ্জিত কুমার বিশ্বাস রাসায়ন শাস্ত্রের এক সমুদ্রের নাম। স্যারের রসায়ন শাস্ত্রে জ্ঞান, সততা, দায়িত্বশীলতা অনুকরণীয় এবং অনুসরণীয়। আমার কাছে স্যারের সবচেয়ে যে বিষয়টি উল্লেখযোগ্য বলে মনে হয় তা হলো তাঁর সততা ও নিয়মানুবর্তিতা। আমরা যখন স্যারকে পাই তখন স্যারের বয়স ৭২+। ইতিপূর্বে স্যার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত রসায়ন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে অবসরে যান। এই বয়সেও স্যার কোনদিন ক্লাসে ১ মিনিট দেরি করে আসেননি বা ক্লাস বাদ দেননি। এমনকি স্যারের মায়ের মৃত্যুর পরের দিনও স্যার ঠিক সময়মত ক্লাসে উপস্থিত হয়েছেন। পাবিপ্রবির রসায়ন বিভাগের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আস্থা ও পছন্দের নাম রঞ্জিত স্যার বা দাদু স্যার। কোন শিক্ষার্থী যদি কোন সমস্যা নিয়ে স্যারের কাছে যায় তাহলে স্যার খুবই আন্তরিকতার সাথে তা সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন, সেটা হোক ব্যক্তিগত বা একাডেমির সমস্যা।

৪র্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী তুষার আব্দুল্লাহ প্রিয় স্যারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “ইউনিভার্সিটি লাইফে স্যার আমাদের অনুপ্রেরণা। কিভাবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হয় সেটা আমরা স্যারের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শিখছি।
স্যারের সময়ানুবর্তিতা, অবিচলতা আমাদের জন্য সর্বদা অনুকরণীয়। স্যারের এই গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যে আমরা আনন্দিত।স্যারের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।