পারিবারিক সহিংসতা ও শিশুদের উপর প্রভাব বিস্তারের মাত্রা

জাফরুল ইসলাম

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০২১ | আপডেট: ৮:৩৫:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০২১ |

একটা ভালো সমাজ গঠিত হয় ভালো পরিবারের মাধ্যমে, আর ভালো পরিবার গঠিত হয় স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্য সুসম্পর্কের মাধ্যমে। পৃথিবীর সূচনা লগ্ন থেকেই পারিবারিক ব্যবস্থা প্রথা বিদ্যামান ছিল। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হয়তোবা পরিবার গঠনের ভিন্নতা বিরাজ করেছিল। অনেক সময় ধর্মের কারণে এই ভিন্নতা দেখা যায়। তবে যতই ভিন্নতা থাকুক না কেন প্রত্যেক সমাজে পরিবার ব্যবস্থা দেখতে পাওয়া যায়। আর এই পরিবারের মাধ্যমে একজন শিশু জন্মগ্রহণ করে এবং বেড়ে ওঠে। আর শিশুরা পরিবারের মাধ্যমে আচার-আচরণ ভদ্রতা পারিবারিক নিয়ম-কানুন ইত্যাদি শিক্ষা লাভ করে। আজ থেকে দুই দশক বা তার কিছু সময় আগে যখন গ্রাম অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক সমাজ এ যৌথ পরিবার ব্যবস্থা বিরাজমান ছিল। তখন পরিবার প্রধানের আদেশ পরিবারের প্রত্যেকে মেনে চলতে বাধ্য ছিল এবং প্রত্যেকের সাথে মিলেমিশে থাকার একটা মানসিকতা সেই সময় সবার মধ্যে বিরাজমান ছিল। সেই সময় শিশুরা পর্যন্ত এই নিয়মগুলো মেনে চলত। আমরা জানি শিশুরা অনুকরণপ্রিয় তারা বড়দের অনুকরণ করে নিজেরাও সেই কাজ করে। বর্তমানে আমরা আধুনিক যুগে বসবাস করছে এবং আধুনিক যুগের বদৌলতে এখন সমাজে একক পরিবার ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে। যার ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি শিশুরা উদার নৈতিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একজন শিশু তার নৈতিক শিক্ষা গুলো পরিবার থেকে অর্জন করে, এখন একক পরিবার হওয়ার কারণে পিতা-মাতা দুজনে বিভিন্ন রকম অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত থাকার ফলে শিশুরা নৈতিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়াও অনেক সময় এসব পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব-কলহ লেগে যায়, যার ক্ষতিকারক প্রভাব শিশুদের উপর পড়ে। অনেক সময় এসব দ্বন্দ্বের কারণে তারা বিবাহ বিচ্ছেদ পর্যন্ত ঘটাতে বাধ্য হয়। একটা পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিনিয়ত যতগুলো বিবাহবিচ্ছেদ ঘটছে তাতে নারীদের সমর্থন রয়েছে ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ ৭০ শতাংশ নারী চায় বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে। এবং এখানে পুরুষদের অংশগ্রহণ ৩৫ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে একটি তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে প্রতি হাজারে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ নারী বিবাহ বিচ্ছেদ করছে, এর বিপরীতে প্রতি হাজারে ১.৫ শতাংশ পুরুষ বিচ্ছেদ করছেন। এবং এই বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অশিক্ষিতের হার ০.৫ শতাংশ, এবং গ্রামাঞ্চলের বিচ্ছেদের হার হাজারে ১.৩ শতাংশ। এমন পরিসংখ্যান এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে আমাদের দেশের শিক্ষিত এবং শহরের লোকজন বেশি বিবাহ-বিচ্ছেদের সঙ্গে জড়িত। বিচ্ছেদের এমন চিত্র বিরাজ করার ফলে এর বিরূপ প্রভাব আমরা এসব পরিবারের শিশুদের মধ্যে দেখতে পাই। তাহলে এখন প্রশ্ন থাকতে পারে কি ধরনের প্রভাব আমরা এসব শিশুদের মধ্য দেখতে পাই? আমরা যদি লক্ষ করি তাহলে দেখতে পাব সমাজের এসব কিছুর বিভিন্ন ধরনের অপরাধের মধ্যে লিপ্ত রয়েছে তাদের অধিকাংশর পরিবারেই এমন সংকট বিরাজমান। আসলে যখন পরিবারের মধ্যে সংঘাত বিরাজ করে তখন শিশুরা নিজের বাড়ি থেকে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ বলে মনে করে বাইরে পরিবেশকে। বাইরের পরিবেশকে এমন আপন করে নেওয়ার ফলে সেখানকার খারাপ মানুষগুলোর সাথে এসব শিশুদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর এই সম্পর্ক গড়ে ওঠার ফলে তারা মাদকাসক্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে একসময় তারা অনেক বড় ধরনের অপরাধের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। কারণ এসব শিশুরা নিজ পরিবারে সহিংসতা পরিলক্ষিত করে আসছে। যখন বাবা ও মা আলাদা হয়ে যায় তখন সন্তানদের নিজেদেরকে অসহায় বলে মনে করে তাদের যত্ন নেওয়ার মত কেউ থাকেনা। যার ফলাফল সমাজ জীবনে দেখা যায়, তাই আসুন একটা আদর্শ সমাজ পরিবার গঠন করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন সংকট না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার করা এবং সংসার জীবনে কম্প্রোমাইজ করার মন মানসিকতা তৈরি করে।