বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণ ও আগামীর বাংলাদেশ

সিফাতুল্লাহ আমীন ডিবিবি

উপ-সম্পাদকীয়, ডিবিবি

প্রকাশিত: ১২:৩৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২০ | আপডেট: ১২:৩৬:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২০ |

কোভিট-১৯ ও প্রকৃতির বৈশ্বিক এই মেরুকরণের অনিশ্চিত সময়ে থেমে নেই বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণ। ক্রমেই পরিবর্তিত ও জটিল হয়ে উঠছে বিশ্ব রাজনীতি। প্রকৃতি যেমন পরিবর্তন করছে খুব দ্রুত তার রুপ, বিশ্ব রাজনীতিতে দেশ গুলো খুব দ্রুতই পরিবর্তন করছে তাদের শত্রু ও মিত্রকে।তবে ভারসাম্য রক্ষা করে ক্রমবর্ধমান জটিল এই মেরুকরনের সময়ে ও কোনো কোনো দেশ রক্ষা করে চলেছে নিজেদের স্বার্থ।বাংলাদেশ ও কি পারছে নিজের স্বার্থের তাগিদে ভারসাম্য রক্ষা করতে?

কোল্ড ওয়ার শেষের পরে বহুবছর পৃথিবীর মেরুকরণ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক। বহুবছর পৃথিবীর নীতিনির্ধারক হিসাবে একক ভাবে দাদাগিরি করে গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।তাই হঠাৎ কারো দাদাগিরি যে যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিবে না তা অনুমেয়। কিন্তু চীনের ক্রমবর্ধমান বানিজ্যিক বিপ্লব, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য উন্নতি এবং বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগ রীতিমতো যুক্তরাষ্ট্রের একক দাদাগিরির পথে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে।আর এখন এই পরিবর্তন স্পষ্ট লক্ষনীয়। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে কেন্দ্র করে পরিলক্ষিত হচ্ছে স্পষ্ট মেরুকরণের রাজনীতি।

যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক রাজনীতির পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব হারানোর উদাহরণ দেখা যায় ইরান ইস্যুতে।অনেক চেষ্টা করেও ইরানের উপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে ব্যর্থ হয় ট্রাম্প প্রশাসন।এক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন অনেকটা হতাশ হয়ে বলে যে, কোনো দেশ ইরানের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইলে তাকেও ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হবে।এর যে কোনো কার্যকারিতা যুক্তরাষ্ট্র প্রতিফলন করতে পারে নি তা স্পষ্ট প্রতিয়মান।তবে চীন ইস্যু নিয়ে খুবই সরব মার্কিন প্রশাসন।চীনকে ঠেকাতে নতুন শক্তিশালী মিত্র ও শক্তিশালী জোট গঠন করতে বহু কার্যক্রম চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্বে রাজনীতির ক্রমবর্ধমান এই পালাবদলে ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্র্যাটেজি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বিশ্ব রাজনীকিকদের কাছে।এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্ব চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কাযক্রমেই বুঝা যায়।চীনের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আসছে সুফল। চীনের সাথে তিস্তা ব্যারেজ চুক্তি তো বাংলাদেশের বহু পুরোনো মিত্র ভারতের চরম মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।শুধু এই প্রথম যে কোনো বাংলাদেশের উদ্যোগ ভারতের মাথা ব্যাথার কারণ হয়েছে এমন নয়।এর পূর্বের বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগে উদ্যোগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের বহুল পরিচিত মিত্র ভারতীয় দাদা বাবুরা।এর মধ্যে বাংলাদেশের চীন থেকে সাবমেরিন ক্রয়ের সময় তো সয়ং ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় বাংলাদেশে এসেছিলেন সাবমেরিন ক্রয়ের কারণ জানতে।তবে বাংলাদেশ তার কার্যক্রম অব্যহত রেখেছিল।সাবমেরিন বাংলাদেশে এসেছে। ভারত ও বসে থাকে নি।তাদের বহু দিনের ব্যবহৃত সাবমেরিন মিয়ানমার কে দেয় যা বাংলাদেশের সানমেরিন কাউন্টার করার জন্যই।বাংলাদেশ ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্কের শীথিলতায় ইন্দো-প্যাসেফিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মিল পাওয়া যায়।

দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবিকাশ রোধে ভারত তাদের শক্ত অবস্থান জোর ধার করতে চাইছে।কিন্তু এজন্য তারা ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্লকে যুক্ত হচ্ছে।সর্বশেষ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের টু প্লাস টু বৈঠকে হওয়া নিরাপত্তা চুক্তি বেসিক এক্সচেঞ্জ এন্ড কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট (BECF) থেকে যা স্পষ্ট প্রতিয়মান।তবে এখানেই বাংলাদেশের সাথে ভারতের স্ট্রাটেজির পরিবর্তন। যেখানে ভারত ক্রমেই ঝুকছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্লকে,সেখানে চীনের সাথে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক উন্নয়ন হচ্ছে বাংলাদেশের। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বাংলাদেশ বজায় রাখছে ভারসাম্যের একটি সম্পর্ক।সম্প্রিতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা ড্রোনই তার উদাহরণ।যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্রাটেজিতে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশের গুরুত্ব। তবে ভারতের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঠিকই বিদ্যমান।সম্প্রীতি রোহিঙ্গা ফান্ড কালেকশন বৈঠকে ভারতের অনুপস্থিতি আরেকবার এটা প্রমাণ করে।

তবে এত কিছুর পরেও বাংলাদেশ ঠিকই তার ভারসাম্যের রাজনীতি নীতিতেই বিদ্যমান থাকতে চাইছে।বিশ্ব রাজনীতির এই খেলায় যুক্তরাষ্ট্র বা চীন কোনো দেশের উপরই একক নির্ভর হতে চাইছে না বাংলাদেশ। এই নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যের রাজনীতিতে কী আসলেই থাকতে পারবে বাংলাদেশ..?