বৈশ্বিক স্বস্তির অপর নাম আমেরিকার জলবায়ু চুক্তিতে ফেরার ঘোষণা

জাফরুল ইসলাম

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২১ | আপডেট: ৯:২৬:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০২১ |

বিশ্ব এখন নতুন রূপ লাভ করছে প্রতিনিয়ত। প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে হাল ফ্যাশনের জীবন কাঠামো থেকে বের হয়ে আধুনিক জীবনে প্রবেশ করছে। একসময়ের এককেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে বহুকেন্দ্রিকতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। একটা সময় বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় প্রত্যেকটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো নির্ভর করত কৃষির উপর। সেখান থেকে বের হয়ে এখন শিল্পের উপর অধিক মাত্রায় নির্ভর করে বিশ্বের প্রায় প্রত্যেকটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে এখন এমন উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। প্রযুক্তি এবং শিল্প কারখানার এমন উন্নয়নের ফলে বিশ্ব এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। শিল্প কলকারখানা থেকে প্রতিনিয়ত ধোঁয়া বেরোচ্ছে যেগুলো বায়ু এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। এছাড়াও শিল্প কারখানার ফলে এখন সেদেশের নদী-নালা প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে। আর এই কঠিন চ্যালেঞ্জকে সঠিকভাবে মোকাবেলা করার জন্য বিশ্বের প্রায়২০০ টি দেশ মিলে একটা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে যার নাম দেওয়া হয়েছে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি। এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী প্রত্যেকটি দেশি চাই এমন সংকট থেকে নিজ দেশকে রক্ষা করতে। বিশ্বের প্রায় প্রত্যেকটি দেশে যদি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে এবং সেখানে যদি বিশ্বমোড়ল আমেরিকা না থাকে তাহলে সেটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আমরা যদি একটু পিছনের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাব। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বিশ্বের প্রায় সবগুলো ক্ষমতাসীন দেশগুলো মিলে লীগ অফ নেশন নামক শান্তি সংস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিল এবং তারা কিছুটা সেখানে সফল হয়েছিল। কিন্তু সেখানে আমেরিকা ছিল না যার ফলশ্রুতিতে আমরা দেখতে পেলাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো বিভীষিকাময় চিত্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়কালে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্যারিসের কপ-২১ নামের একটা সম্মেলনে জলবায়ু চুক্তিতে সম্মত হয় বিশ্বনেতারা,এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রসহ ২০০ টি দেশ স্বাক্ষর করে। কিন্তু ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর তিনি এই চুক্তি থেকে বের হয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়, এবং সেটা কার্যকর হয়২০২০ সালের ৪ নভেম্বর। ট্রাম কতৃক যুক্তরাষ্ট্রকে জলবায়ু চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মান কিছুটা ক্ষুন্ন হয়। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ু চুক্তি তে ফেরার ঘোষণা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। কারণ বিশ্ব যখন সংকটের সঠিক সমাধান দরকার তখন মোড়লকে সেই সংকট মোকাবেলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এতক্ষণ যে জলবায়ু সমস্যা নিয়ে কথা বলা হলো সেখানে আমরা জানি চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অগ্রগণ্য। এই দুইটি দেশ বৃহৎ পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপাদন করে জলবায়ুতে। আমরা জানি বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কার্বন উৎপাদনকারী দেশ চীন ও আমেরিকা। অন্য সকল দেশ যদি কার্বন নিঃসরণ এর পক্ষে অবস্থান করে এবং সেখানে যদি এই দুই দেশ বিপক্ষে অবস্থান করে তাহলে কোনো লাভ হবে না। কারণ যারা এই সংকট সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে তাদেরকে এই সংকট মোকাবেলা করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলশ্রুতিতে আমরা পৃথিবীতে নানা রকম পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি যেমন অসময় বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, ইত্যাদির মতো সংকট বিরাজ করছে। বিজ্ঞানীরা ২০৫০ সাল নাগাদ মোট ভূমির ৪০% নিমজ্জিত হবে বলে আশঙ্কা করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশে সবচাইতে বেশি পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তারা মনে করছে বাংলাদেশের প্রায় অধিকাংশ দ্বীপ গভীর সমুদ্রে নিমজ্জিত হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে অতিমাত্রায় ঘূর্ণিঝড় এবং বন্যার মত সমস্যার প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশ্বের এমন ক্রান্তিকালীন সময়ে প্রত্যেক দেশকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। কারণ এই সমস্যা নির্দিষ্ট কোন দেশের জন্য নয় বরং গোটা বিশ্বের, গোটা বিশ্বের সমস্যাকে আমরা সবাই একযোগে হয়ে সমাধান করব এটাই আশা করা যায়। আর এখানে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এর সিদ্ধান্ত সত্যই অনন্য, অর্থাৎ তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটার মাধ্যমে আমেরিকার প্রভাব কিছুটা রক্ষা হবে এমনটা আশা করা যায়।