শিক্ষার্থীদের জীবনে করোনার প্রভাব

মোসা: হাবিবা খাতুন

ফিচার ও মতামত

প্রকাশিত: ৯:১২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২০ | আপডেট: ৯:২৪:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২০ |

করোনা মহামারিতে মুখ থুবড়ে পড়েছে পুরো পৃথিবীর অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা,রেহাই পায়নি শিক্ষা ব্যাবস্থাও। যার প্রভাবে জন জীবন কুপোকাত।অস্থির পৃথিবী পেয়েছে বিশাল অবসর। গতিশীল শিক্ষার্থীরা যাদের দম নেওয়ার সময় ছিলনা তারাও আজ ঘরে বন্ধী।কিভাবে কাটছে তাদের এই বিশাল অবসর, ঘরবন্দী সময়টায় বা কাটছে কিভাবে আর করোনা তাদের জীবন কি প্রভাব ফেলেছে এসব নিয়েই আজকের প্রতিবেদন। প্রতিবেদনটি তৈরী করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মোসা: হাবিবা খাতুন।

শিক্ষা জীবনে করোনার প্রভাব বর্ণনা করতে গিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী যারীন তাসনীম দিশা বলেন, “স্বপ্ন যখন সবে ডানা মেলতে শুরু করেছে ঠিক তখনই যেন সব স্তব্ধ হয়ে গেল! হঠাৎ থমকে গেল আমার চিরচেনা পরিবেশ, থমকে গেল পুরো বিশ্ব। এডমিশন নামক ভর্তি যুদ্ধ শেষ করে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেলাম। ডাক্তার হওয়ার একরাশ স্বপ্ন নিয়ে আরেক যুদ্ধে যখন নেমে পড়েছি ঠিক তখনই করোনা মহামারী এনে দিলো এক দীর্ঘ অবসর। এই অবসর তো আমি চাইনি,সে যুদ্ধ যে ছিল প্রশান্তির, সে যুদ্ধ ছিল স্বপ্ন পূরণের যুদ্ধ।আস্তে আস্তে অবসর যেন বেড়েই চলেছে আর সাথে বেড়ে চলেছে মানসিক ক্লান্তি। দীর্ঘ সময় বাড়িতে থাকা আমার মধ্যে বিরক্তির সৃষ্টি করেছে! আমি সত্যিই ক্লান্ত। একটু প্রশান্তির খোঁজে, একটু হাওয়া বদল করার জন্য বাইরে ঘুরতে যাবে মনে করলেও, মনে জেঁকে বসে করোনার ভয়। সারাটা দিন এখন অনলাইন আর ঘুমের মধ্যেই কেটে যায়। অনলাইন ক্লাস আর পরীক্ষার কারণে চাইলেও অনলাইন থেকে দূরে থাকতে পারিনা। দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকার কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছি,প্রায়ই মাথাব্যথা এবং চোখের সমস্যা অনুভব করি। তাছাড়া অনলাইন ক্লাস থেকে পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে পারছি বলেও আমার মনে হয় না। সত্যি বলতে মাঝে মাঝে পড়াশোনায় মন বসানো কঠিন হয়ে যায়,মাঝে মাঝে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। আমার মনে হয় এই সমস্যা অধিকাংশ মানুষের। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির কারণে বাড়ছে পারিবারিক কলহ আরও নানান অসামাজিক কাজ। কর্মব্যস্ততা থেকে দীর্ঘ বিরতি মানুষের মাঝে তৈরি করেছে ডিপ্রেশন নামক এক ভয়ংকর অসুখ, যার ফল স্বরূপ কানে আসে আত্মহত্যার মতো ভয়ঙ্কর খবর। আমিও মাঝে মাঝে ডিপ্রেশনে চলে যাই, তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে, পরিবারের সহায়তায় সেটা কাটিয়ে উঠতে পারি। তবে এতকিছুর পরেও এই দীর্ঘ সময় বাড়িতে থাকার ফলে পরিবারের সবার সাথে সময় কাটাতে পারছি। নিজের পছন্দের কাজগুলো, শখের কাজ গুলো করতে পারছি! কথায় আছে, “মানুষ অভ্যাসের দাস”। এখন অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি! তবে এমন জীবন আমি সত্যিই চাই না! ফিরে পেতে চাই আমার সেই আগের জগৎ কে! যেখানে ব্যস্ততা ছিল, দিনশেষে বন্ধুবান্ধবের সাথে আড্ডার আসর ছিল, স্বপ্ন পূরণের গল্প ছিল।
সুস্থ হয়ে যাও পৃথিবী, এখনো অনেক স্বপ্ন দেখা বাকি,অনেক স্বপ্ন পূরণ করা বাকি।”

করোনার সময় পড়া-শুনায় মনযোগ হারিয়ে ফেলছে উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সাহিন আলী বলেন, “করোনা মহামারিতে বিধস্ত পুরো পৃথিবী। চিরচেনা ব্যস্ততম মানুষ গুলোও এক নিমিষেই থমকে দাঁড়িয়েছে।যার প্রভাব হিসেবে পড়াশোনায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছি। ক্যাম্পাসে অবস্থানকালীন সময়ে পড়াশোনায় একটা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতাম। যেটার বিন্দুমাত্র বাড়িতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আবার,প্রান্তিক এলাকায় বসবাস করার ফলস্বরূপ অনলাইন ক্লাস যেন হিতে বিপরীত, কোয়ালিটি সম্পন্ন ডিভাইসের অভাবে ক্লাস করতে ব্যর্থ হয়ে দিন দিন হতাশা বৃদ্ধি হচ্ছে। করোনার ভয়ংকর থাবা স্বাস্থ্য খাতে।শারীরিক স্বাস্থ্যের সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, দীর্ঘদিন সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার নিমিত্তে বাড়িতে অবস্থানের কারণে মনের পর্যাপ্ত খোরাক পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছি। কার্যত কারণেই মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
সর্বোপরি, পর্যাপ্ত কাজের অভাবে পরিবারে দারিদ্র বেড়ে যাচ্ছে।তবুও আশা রাখি,সুস্থ হয়ে উঠুক পৃথিবী, গতিশীল হোক মানুষের জীবন।”

মানসিক ভাবে ভালো থাকতে হলে প্রকৃতপক্ষে খুব কমসংখ্যক মানুষ আর কিছু পছন্দের কাজই যথেষ্ট উল্লেখ করে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইন্জিনিয়ারিং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি’র শিক্ষার্থী আল মুমতাহিনা এরিকা বলেন, “ছোটখাটো একটা হগওয়ার্টসে পা রেখেছিলাম ৬ জানুয়ারী,২০২০ তে।শুনেছি লোকে একে বলে “লাল স্বর্গ”!স্বপ্ন থেকে চৈতন্যোদয় হওয়ার আগেই হুহহাট রেড নোটিস।ভাবলাম বাসায় যাচ্ছি সাত দিনের জন্য।সে কি?চোখ খুলে দেখি সাত মাস।

ছুটির প্রথম কিছুদিন আমার খুব উৎসাহে কাটলো। আমি বরাবরই হোম সিক আর ইন্ট্রোভার্টেড মানুষ।একলা থাকতে পছন্দ করি। কিন্তু দিন যত যায় ভার্চুয়াল যোগাযোগ বা এসবের কিছুই আর ভালো লাগলো না। টিভি,সোস্যাল মিডিয়া,নিউজ পোর্টাল সবখানেই হেরে যাওয়ার খবর। বিশ্ব জুড়ে অস্থিরতা, মানসিক দিক দিয়ে কেমন একটা ভয়। তারপর পরিচিত কারো আক্রান্তের কথা শুনলে হতাশ হয়ে পড়ি।এদিকে কিছু বন্ধুরা নিজেদের মতো প্রোডাকটিভ কাজ করে চলছে।কেউ ভালো ছবি আকে,কেউ সংস্কৃতি চর্চা,ভাষা শিক্ষা, লেখালেখি, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কিংবা অনলাইন কোর্স। আমার নিজের বই পড়বার অভ্যাস ছিলো গত বছরে যা প্রায় হয়নি বল্লেই চলে। আমি প্রথম একমাস প্রায় সারাদিন বই পড়ে কাটিয়ে দিলাম। আর সংস্কৃতি চর্চা বলতে নাচ-গান দুটোই নিজের মতো করে করতাম। বই পড়ি, ছাদে গিয়ে গাছ লাগাই,মাঝে মাঝে অদ্ভুত খাবার রান্না করি এভাবেই চলছিলো।উৎসব গুলোও দেখলাম তাদের রং হারিয়েছে সব!!মানসিক দিক দিয়ে নিজেকে আর কাছের মানুষদের ঠিক রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি তখনও । হঠাৎ একদিন শুনলাম “অনলাইন ক্লাস” নামক অদ্ভুত কোনো কিছু শুরু হবে।যাকে বলে ধর তক্তা মার পেরেক অবস্থা। বেশ!হলোও তাই।বলে রাখি মানসিক ভাবে একজন উচ্ছ্বল তরুন-তরুনীকে বিপর্যস্ত করার জন্য এই অনলাইন ক্লাসই যথেষ্ট। সে বিষয়ে রচনা করলে সাহিত্য হবে। এদিকে যথেষ্ট ইতিবাচক মানসিকতার একজন মানুষ হওয়া স্বত্বেও নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষায় হঠাৎ এতো ব্যস্ত হয়ে পরলাম যেনো বাসায় থেকেও কাউকে সময় দিতে পারিনা।এদিকে খুব স্বাভাবিক ভাবেই বিশাল একটা জেনারেশন গ্যাপের কারণে বাবা-মা ও বুঝতে পারেননি ঠিক এই পড়াশোনা ব্যাপারটার গুরুত্ব এই ভয়ঙ্কর বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কিভাবে বিবেচনা করা যায়।

তবে দিনশেষে অভিজ্ঞতা পাহাড়সম।মানসিক ভাবে ভালো থাকতে হলে প্রকৃতপক্ষে খুব কমসংখ্যক মানুষ আর কিছু পছন্দের কাজই যথেষ্ট। সাথে ধর্মীয় অনুশাসন তো আছেই। আশেপাশের মানুষের কাছে আপনার গুরুত্বটা বুঝতে কিছু সময় একলা থাকুন। ভাবুন।যেকোনো পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্হ্যের যত্ন নিন।লকডাউনে থেকেও প্রমাণ করুন কোনো প্যানডেমিকই মানবতার চেয়ে বড় নয়।”

করোনার সময়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে উল্লেখ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ ওয়াজেদ বলেন,”আমার এলাকাতে দুই-এক জন করোনা পজিটিভ হলেও কোনো মৃত্যুর সংবাদ আসেনি। সেই দিক দিয়ে একটু স্বস্তিতেই আছি।উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া পর্যন্ত একদমই দম নিতে পারিনি। গ্রামের বাড়ি থেকে শহরে পড়াশুনা করার কারনে পরিবার থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন রয়েছিলাম।তাই,মানসিক ভাবেও ছিলাম অনেক বিধ্বস্ত।

করোনাকালীন এই ছুটিতে একটু স্বস্তি পেয়েছি।পরিবারকে পাশে পেয়ে মানসিকভাবেও অনেক প্রাণবন্ত হয়েছি।এখন আর পড়ার চাপ নিতে হয় না। সকালের বিরক্তিকর এলার্মে আর ঘুম ভাঙ্গাতে হয় না। শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্য, মেসের অখাদ্য খাবার আর খেতে হয় না।ক্যারিয়ার নিয়ে অসুস্থ প্রতিযোগিতা আর করতে হয় না।
এখন আমার মন হয়েছে একটি মুক্ত পাখির মতো।এখন যা মন চায়, করতে পারি।মন চাইতেছে একটা উপন্যাস পড়ব! পড়তেছি।মন চাইতেছে একটা মুভি দেখব! দেখতেছি।মন চাইতেছে আকাশের দিকে ঘন্টার পর ঘন্টা তাকায় থাকব! থাকতেছি।মন চাইতেছে চাঁদের আলোতে নির্জন রাস্তাতে হাটব! হাটতেছি।মন চাইতেছে বৃষ্টির পানিতে কাকভেজা হয়ে ভিজব! ভিজতেছি।কোনো বাধা-ধরা রুটিন মাফিক নিয়ম নাই।যা আমার এই মুক্ত টগবগে মনকে আটকায় রাখবে।এই সময়টা আমার কাছে সত্যিই উপভোগ্য।যা আমার এই বিশ বছর জীবনে এরকম চিন্তামুক্ত পরিবেশ সত্যিই কখনো পাইনি।

তারপরও চাই সময়ের প্রয়োজনে;বাস্তবতার প্রয়োজনে পৃথিবী আবার ব্যস্তময় হয়ে উঠুক।পৃথিবীর মানুষ হয়ে উঠুক আবারও হোমো-রোবোট।”

নতুন পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারলেও আগের ব্যস্তময় জীবন সুন্দর ছিলো উল্লেখ করে জাহাঙ্গগীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আকতার সিনথী বলেন, “সাত মাস আগের কথা,কলেজ জীবনের পাট চুকিয়ে,হাজারো স্বপ্ন আর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে পদার্পণ করেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। নতুন প্রাঙ্গন,নতুন ক্লাস, নতুন বন্ধুদের সাথে যখন নতুন করে নিজেকে তৈরি করতে মনস্থ করেছি ঠিক তখনই এক অনাকাঙ্ক্ষিত মহাদুর্যোগ নেমে এলো আমাদের উপরে।কোভিড-১৯ নামক মারাত্মক এক ভাইরাস এর সংক্রমণ। পড়ে গেল আমাদের ছুটির ঘন্টা। ফিরে এলাম বাড়িতে।থমকে গেল সবকিছু। কিন্তু সময় কখনো থামেনা…

আজ সাত মাস পার হয়ে গেছে।করোনার ভয়ংকর থাবায় হাজার হাজার মৃত্যুর খবর শুনতে শুনতে অস্থির হয়ে উঠেছিলাম।অজানা এক ভয়ে ভীত থাকতাম সবসময়। কিন্তু ধীরে ধীরে দিনগুলো অভ্যস্ততায় পরিণত হলো। জীবন যাপনের ধরন বদলে গেল।ব্যাস্ততায় ভরা জীবনের পরিবর্তে পেলাম অফুরন্ত অবসর।শুরুর দিকে এই অবসর কে উপভোগ করলেও ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম যে আমার সেই ব্যস্তময় জীবনই ভালো ছিল। প্রতিদিনের ক্লাস, বন্ধুদের সাথে আড্ডা,দিনশেষে আবারও নতুন করে পরের দিনের জন্য নিজেকে তৈরী করা…একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এটাই তো আমার জীবন!কিন্তু সেই জীবনটা আপাতত স্থগিত।বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী হওয়ায় পড়াশোনার তেমন চাপ ছিলনা।বেশ কিছুদিন পর অনলাইন ক্লাস চালু হল।শুরুতে বেশ আগ্রহ থাকলেও ধীরে ধীরে আগ্রহ হারিয়ে ফেললাম। প্রযুক্তির অনেক আশীর্বাদের মাঝেও কোথায় যেন একটা ফাঁক থেকেই যায়।

দীর্ঘদিনের ঘরবন্দী অবস্থার কারণে মাঝে মাঝে একঘেয়েমি আর বিরক্তি চলে আসে।তাই সবসময় চেষ্টা করেছি কোনো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে।এখন বেশিরভাগ সময় বই পড়ে,পরিবারের সাথে সময় কাটিয়ে আর সৃজনশীল কিছু করার চেষ্টা করে কাটাই।এই কয়েক মাসের অভিজ্ঞতায় একটি বিষয় অনুধাবন করেছি।তা হলো মানুষ হিসেবে আমরা যেকোনো সময় যেকোনো পরিবর্তনের সম্মুখীন হতে পারি।সেই নতুন পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হয়।জীবনের সার্থকতা এখানেই।

আমি আশাবাদী একজন মানুষ।এই প্রতিকূলতা শেষে আবারও সেই ব্যস্ততম আনন্দময় দিনগুলো ফিরে পাওয়ার,থমকে থাকা স্বপ্নগুলো নতুন করে দেখার অপেক্ষায় আছি।আশা করছি সেই সময় টা ফিরে পাব খুব দ্রুত।”