শিক্ষার্থীদের ভাবনায় আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস

ফিচার ও মতামত ডেস্ক ডিবিবি

ডেইলি বাংলাদেশ বার্তা

প্রকাশিত: ৯:৫৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২০ | আপডেট: ৯:৫৪:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২০ |

আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস আজ। আজকের দিনটি শুধুই মেয়েদের। পৃথিবীজুড়ে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ প্রতিবছর যথাযথ মার্যাদায় এই দিবসটি পালন করে থাকে।

কন্যা শিশুর শিক্ষার অধিকার, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, পুষ্টি, আইনি সহায়তা ও ন্যায়ের অধিকার, বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে কার্যকরী ভূমিকা পালনের উদ্দেশ্যে এ দিবসের সূচনা হয়। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল নামক বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি প্রকল্প রূপে আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসের জন্ম হয়েছিল।

২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর প্রথম কানাডায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস পালনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর তারিখে প্রথম আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস পালন করা হয়। বর্তমানে যা প্রতিবছর জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসসূহ যথাযথ মর্যাদায় পালন করে আসছে।

১১ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষ্যে বর্তমান সময়ে সমাজে কন্যা শিশু তথা নারীদের অবস্থান নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভাবনা তুলে ধরেছেন ইউছুব ওসমান

 

রাতের চন্দ্র পূর্ণতা পায়

পূর্ণতা পায় পৌরুষ সমাজ

চারদিকে অধিকার, নারী করে হাহাকার

কবে পাবে নারী তার পূর্ণ অধিকার।

আজ কন্যা দিবস। আমার মনে হয় না কন্যা দিবসকে কোনো একটা নির্দিষ্ট দিনে বেঁধে দেওয়া যায়। আমার মনে হয় প্রতিটা দিবস ই কন্যা দিবস। কারন কন্যারা যদি না থাকত তাহলে আমাদের সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে যেত।নারীরা শুধুমাত্র কারো মা, বোন, স্ত্রীই নয় বরং ধৈর্য, সাহস, সংগ্রাম ইত্যাদি বিশেষনের অন্যরুপ। তাদের হাত ধরেই গড়ে উঠেছে আমাদের সভ্যতা। কিন্তু আমাদের সমাজব্যবস্থায় তার উল্টো চিত্র দেখা যায়। সৃষ্টিলগ্ন থেকেই এ সমাজে নারী-পুরুষের বৈষম্য বিরাজমান। নারীদের ও পুরুষদের মতোই বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। কিন্তু আমাদের সমাজব্যবস্থায় মনে করা হয় নারীদের কাজই হচ্ছে রান্নাবান্না করা আর সংসার সামলানো। কিন্তু তারা অবগত নন যে শিক্ষা জীবনের সকল ক্ষেত্রেই প্রয়োজন। শিক্ষা শুধুমাত্র চাকরি পাওয়ার জন্যই না বরং উন্নত মানুষ হবার জন্য প্রয়োজন। এছাড়া একশ্রেনির মানুষ ধর্মীয় অজুহাত দেখিয়ে নারীদেরকে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত  করেছে। কিন্তু কোনো ধর্মেই নারীদেরকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখার কথা বলা হয়নি। একজন নারীর জীবনের প্রতিটি স্তরে রয়েছে প্রতিবন্ধকতার ইতিহাস। শতবাঁধা পেরিয়ে যখন কোনো নারী স্বাবলম্বী হয়ে কোনো কর্মক্ষেত্রে ভালো ফলাফল করে, সেখানেও সে শিকার হয় বৈষম্যে। নারীদেরকে মাসসিকভাবেও ছেলেদের চেয়ে দূর্বল ভাবা হয়। ফলে মেধাবী হওয়ার পরও তারা তার যথাযথ মূল্যায়ন পায় না। সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। নারীরা শিকার হচ্ছে যৌতুক, এসিড নিক্ষেপ, ধর্ষণ, ইত্যাদি ঘৃণ্য অপরাধের। কিছু ক্ষেত্রে বিচার হলেও বেশিরভাগ অপরাধীই আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যায়।

বর্তমান ২০২০ সালে এসেও করোনাকালীন সময়ে নারীদের সাথে অমানবিক আচরণ খুবি হতাশ করে তোলে। চারদিকে যেনো ধর্ষণের উৎসব চলছে। একটা স্বাধীন দেশে বাস করে যতটুকো নিরাপদ থাকার কথা তার বিন্দুমাত্র পাচ্ছি না। রাস্তায় একা হাটা যায় না, সন্ধার পরে বাহিরে বের হতে ভয়। প্রতিনিয়তই জীবনের আনন্দটুকো কেড়ে নিচ্ছে। আজ এ আন্তর্জাতিক কন্যা দিবসে নারীর পূর্ণ স্বাধীনতা আর অধিকার ছাড়া কিছুই চাওয়ার থাকে না।

ইশরাত জাহান রেশমা
মার্কেটিং বিভাগ।

 

আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস গোটা বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘ রাষ্ট্রসমূহ প্রতিবছর ১১ অক্টোবর তারিখে পালন করে। তাই আজ আন্তর্জাতিক কন্যা দিবস। এই দিবসকে মেয়েদের দিনও বলা হয়। তবে এত এত দিবসের ভিড়ে কেন যুক্ত করা হলো এই কন্যা শিশু দিবস, কেননা একটি দিন শুধু কন্যা শিশুদের জন্য উৎসর্গ করা।সারাবিশ্বেই অনেকগুলো কারণে কন্যা  শিশুরা বেশ অবহেলিত। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, মর্যাদা, ভালোবাসা প্রায় বলতে গেলে সব দিক থেকেই বঞ্চিত কন্যা শিশুরা। শুধু যে আমাদের দেশের চিত্র এমন তা কিন্তু নয়, এটি সারাবিশ্বেই কোনো না কোনো জায়গায় প্রতি মুহূর্তে অবহেলার শিকার হচ্ছে কন্যা শিশু।

কল্যাণমূলক সৃষ্টির সাথে নারী-পুরুষের অবদান অনস্বীকার্য। শুধুমাত্র পুরুষরাই সব সৃষ্টির সাথে জড়িত নয়। সেজন্য সব শিশুদেরকে সমভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। কন্যা শিশুর প্রতি বৈষম্য প্রাগৈতিহাসিক। সে ধ্যান ধারনা থেকে বেড়িয়ে আসা জরুরি।

অন্যদিকে কন্যাদের বাইরের অবস্থা নিরাপদ কী? না, কেননা রাস্তায় বের হলেই ওঁত পেতে থাকে কিছু কুলাংগার ছেলে, যুবক, বৃদ্ধ, হুজুর, বনিতা সবাই। “যেনো কন্যা শিশু হলো মালিকছাড়া মুরগি, তাকে টেনে হিঁচড়ে ছিঁড়ে খাওয়া যায় অতি সহজেই”।

পরিবার ছাড়াও সামাজিক ভাবেও তারা হচ্ছে নানাভাবে নির্যাতিত। মূলত মেয়েদের শিক্ষার অধিকার, পরিপুষ্ট, আইনি সহায়তা ও ন্যায় অধিকার, চিকিৎসা সুবিধা ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, নারীর বিরুদ্ধে হিংসা বলপূর্বক বাল্যবিবাহ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে এ দিবসের সূচনা হয়। অর্থাৎ, পৃথিবীজুড়ে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর প্রথম এ দিবসটি পালন করা হয়। জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রতিবছর এ দিবসটি পালন করে থাকে।

কন্যাশিশুদের শিক্ষার অধিকার, পুষ্টি, স্বাস্থ্য, আইনি সহায়তা ও ন্যায় অধিকার, চিকিৎসা, বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কার্যকরী ভূমিকা পালনের উদ্দেশে এ বছরও  বিশ্বব্যাপী  পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস। দৃষ্টিভঙ্গি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কন্যা শিশুরা এখন আর অপ্রত্যাশিত নয়।কন্যাশিশুরা শিক্ষিত হলে তারা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। দেশবাসীসহ সকল অভিভাবকদের প্রতি উদাত্ত  আহ্বান, আসুন কন্যা শিশু  দিবস পালন করি। যথাযোগ্য মর্যাদায় আর কন্যা শিশুদের বোঝাতে সাহায্য করি- “তারাও মানুষ, শুধু কন্যা নয়”।

মুন্নি আক্তার প্রিয়া
লোকপ্রশাসন বিভাগ।

 

চারিদিকে নির্যাতন, অত্যাচার

নারী কবে ফিরে পাবে তাঁর মানুষ হিসাবে বাঁচবার অধিকার?

নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁর সহিত সংঘটিত যেকোন সহিংস, শারীরিক বা মানসিক রুচিহীন কাজই নারী নির্যাতন। সময়ের সাথে এসব বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। চোখের পাতা থেকে ঘুম বিদায় নিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর নিউজফিড, টিভি স্কিন এবং পত্র-পত্রিকায় আজ শুধুই ধর্ষণময় পোস্ট আর প্রতিবেদন। আজ ১১ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক কন্যা দিবস। কত মাধুরি মিশিয়ে হয়তো বলতে পারতাম,সভ্যতার এই সুনিপুণ বির্নিমান নারী-পুরুষ উভয়ের দান কিংবা মহান বিশ্বের যা কিছু আছে চির কল্যাণকর অর্ধেক তাঁর করিয়াছে নারী, অর্ধেক তাঁর নর। দুঃখজনক হলেও সত্যি উল্লেখ করতে হচ্ছে নেতিবাচক এক পরিস্থিতির। যেখানে নেই কোন মা-বোনের নূন্যতম নিরাপত্তা। নির্যাতন পরবর্তী সময়ে যারা এগিয়ে আসতেন ভরসাময় হাত নিয়ে তারাও এখন এ পথের দিশারী। পাড়ার বখাটে ছেলের স্থান এখন ঐক্যবদ্ধ ভাবে কেড়ে নিয়েছে সমাজের প্রায় সবাই। মসজিদের ইমাম, গির্জার ফাদার, শিক্ষক এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বাবা রাও পিছিয়ে নেই। অথচ, ধর্ম, সামাজিকতা কিংবা নৈতিকতার মানদন্ডে নারীকে দেয়া সর্বোচ্চ সন্মান। নেই শুধু সন্মানের বাস্তব রূপ! পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্র সর্বক্ষেত্রে নারীরা আজ নির্যাতিত মানুষরূপী অমানুষদের দ্বারা। আইনের বেড়াজাল ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বা বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা তাদের দিচ্ছে বেপরোয়া হবার সুযোগ। পাশাপাশি সামাজিক কু-শিক্ষাকে ও টেনে আনা প্রয়োজন। ছোট বয়স থেকেই পরিবার বা সমাজ শিক্ষা দেয়, নারীরা দূর্বল বা পুরুষরা সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। ছেলে মেয়েদের স্বাভাবিক মেলামেশায় সৃষ্টি করা হয় অস্বাভাবিক প্রতিবন্ধকতা। দেয়া হয় না পর্যাপ্ত যৌন শিক্ষা। অন্যদিকে, সহজলভ্য ইন্টারনেটের দরূণ পর্ণ সাইটগুলোতে ইন করা খুব সহজ হয়ে গিয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক কালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পর্ণ সাইট দেশীয় নেটওয়ার্ক থেকে সড়িয়ে নিয়েছে। সব কিছু ছাড়িয়ে বর্তমান সময়ের ঘটনাগুলো স্তব্ধ করে দিয়েছে আমাদের বিবেককে। নারীর স্বাধীনতা ও সন্মান কতোটা সেটা ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যায়। প্রত্যাশা থাকবে এগুলো হোক চিরতরে বন্ধ। সৃষ্টি হোক কঠোর আইন এবং বাস্তবায়ন। প্রতিটি নারী পথ চলুক আমাদের মাঝে আমাদের ই একজন হয়ে। তাঁদের চলার পথ হোক বাঁধামুক্ত, জীবন হোক আলোকিত। পূর্ণ স্বাধীনতা ও সম অধিকার প্রতিষ্ঠায় নারীকে পাশে থেকে সহযোগিতা করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। জয় হোক মাতৃত্বের। জয় হোক সুস্থতার, নিপাত যাক অশ্লীলতা। কন্যা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছড়িয়ে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তরে। শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা!

অনন্য প্রতীক রাউত
আইন বিভাগ।

 

আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস সারা পৃথিবী জুড়ে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ প্রতিবছর ১১ অক্টোবর তারিখে পালন করে। এই দিবসকে মেয়েদের দিনও বলা হয়। লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ, নারীদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইন ও ন্যায়ের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য নিয়েই এ দিবস উদযাপনের যাত্রা শুরু।

কল্যাণমূলক সৃষ্টির সাথে নারী -পুরুষের অবদান অনস্বীকার্য। শুধুমাত্র পুরুষরাই সব সৃষ্টির সাথে জড়িত নয়।সেজন্য সব শিশুদেরকে সমভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। কন্যা শিশুর প্রতি বৈষম্য প্রাগৈতিহাসিক। সে ধ্যানধারনা থেকে বেড়িয়ে আসা জরুরি, এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েই নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সারা বিশ্বব্যাপী এই দিবস প্রতিবছর পালন করা হয়ে থাকে। বর্তমান সময়ে পরিবার ছাড়াও সামাজিক ভাবেও অনেক নারী নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। বর্তমানে চারিদিকে ধর্ষণের সংখ্যা বেড়ে গেছে। যা নারীর অধিকার হননে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।

ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে নারীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া এখন অনেক জরুরী হয়ে পড়েছে। কন্যাশিশুদের শিক্ষার অধিকার, পুষ্টি, স্বাস্থ্য, আইনি সহায়তা ও ন্যায় অধিকার, চিকিৎসা, বৈষম্য থেকে সুরক্ষা,বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কার্যকরী ভূমিকা পালনের উদ্দেশে এবছরও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক  কন্যা শিশু দিবস। সকল বৈষম্য দূর হয়ে যাক, নারী তার অধিকার পাক, এটাই আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসে আমার প্রত্যাশা।

অনিক মাহবুব
লোকপ্রশাসন বিভাগ।

 

গোটা বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘ রাষ্ট্রসমূহ প্রতিবছর ১০অক্টোবর আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালন করে। এই দিবসকে মেয়েদের দিনও বলা হয়। ২০১২সালের ১১অক্টোবর প্রথম এই দিবস পালন করা হয়েছিল। এ দিনের উল্লেখযোগ্য সূত্রসমূহ হলো শিক্ষার অধিকার, পরিপুষ্টি, আইনি সহায়তা ও ন্যায় অধিকার, চিকিৎসা সুবিধা ও বৈষম্য থেকে রক্ষা, নারীর বিরুদ্ধে হিংসা ও বাল্যবিবাহ রোধ করা।

আমাদের সমাজকে সুষ্ঠুভাবে চলমান রাখতে হলে নারী-পুরুষ উভয়েই সমান অধিকার প্রয়োজন। একটি দেশের চাকা সচল রাখতে পুরুষের যেমন ভূমিকা রয়েছে ঠিক তেমনভাবে নারীরও ভূমিকা রয়েছে। তাই তো কবি বলেছেন,”এ পৃথিবীর যা চিরকল্যানকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।”

কিন্তু বর্তমান যুগে এসেও কমেনি নারীর প্রতি সহিংসতার মাত্রা। সমাজের সভ্যতার সাথে সাথে মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনাও সভ্য হয়ে উঠে শুনেছি কিন্তু এখন দেখছি সভ্য শুধু সমাজ ই হয়ে উঠেছে মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনা হয় নি। এখনও অনেক বাবা-মা কন্যাসন্তানকে নিজেদের বোঝা মনে করেন।নারীরা এখন কোথাও নিরাপদ নয় এমনকি নিজের বাসাতেও নয়।সবার মনেই এখন একই প্রশ্ন কবে শেষ হবে এ সহিংসতার পরিমাণ?

নারীদের ও মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। নারীশিক্ষা বিস্তারে আমাদের সকল ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। নারীরাও যে দেশের উন্নয়নে অনেকাংশ ভূমিকা রাখে সে ব্যাপারে সকলকে সচেতন করতে হবে।সবার উপরে মানুষ জাতির জয় হোক।

সাদিয়া নওশীন বিন্তি
পরিসংখ্যান বিভাগ।

 

লিংগ বৈষম্য দূরীকরণ করে মেয়েদের ক্ষমতায়ণ সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে; নারীর প্রথম রূপ কন্যা শিশুর নিরাপত্তার অধিকার আদায়ে,বিশ্বজুড়ে যে কন্যা শিশু দিবস পালন করা শুরু হয়েছিলো,সেই আন্দোলনের,সেই দিবসের সফলতার অনেক ফলাফলই  এখন আমরা চারিদিকে দেখতে পাচ্ছি। আদিকালের পিছিয়ে পড়া নারীরা এখন অনেকটাই সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তাদের অধিকার, নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে।

সামাজিকতার বাধা টপকে সফলতার ছোঁয়া পাওয়া মহীয়সি নারীদের এই সাফল্য একদিনে আসে নি।আন্তর্জাতিক কন্যা দিবসের মতো সফল একটি আন্দোলন তাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছে,সাহস দিয়েছে,নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে,এগিয়ে নিয়েছে অনেকদূর।

আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসের সকল উদ্দেশ্য ইতিমধ্যেই পৃথিবী জুড়ে পূর্ণ হয়ে গেছে তা কখনোই নয়, তবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নারীর ক্ষমতায়ন, কন্যা শিশুর নিরাপত্তা, তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা, শিক্ষার অধিকার ও পরিপুষ্টি নিশ্চিত করণে যেভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে যাচ্ছেন, খুব শীঘ্রই কন্যা শিশুদের জন্য বাংলাদেশ একটি নিরাপদ আবাস্থল সৃষ্টি করতে পারবে, কন্যা শিশু দিবসের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে তা নিঃসন্দেহে।

কিছুদিন যাবৎ বাংলাদেশ জুড়ে ধর্ষণ এর ভয়াবহতা যেভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে,ধর্ষকের  শাস্তি দিয়ে ও প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিয়ে এই আতঙ্ক থেকে বের করে বাঙালি কন্যাদের জন্য নিরাপদ একটা আভাসস্থল সৃষ্টি করবেন বাংলাদেশ সরকার,আন্তর্জাতিক কন্যা দিবস-২০২০ এ এই আমার প্রত্যাশা। আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস-২০২০ সফল ও স্বার্থক হোক।

মুঈন খান
লোকপ্রশাসন বিভাগ।