স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বাংলাদেশ

জাফরুল ইসলাম

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ১২:১৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০২১ | আপডেট: ১২:১৮:অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০২১ |

বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ নামক সত্য দেশ প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ২৬ শে মার্চ। নানা উথান পতন এর মধ্য দিয়ে আজকের এই বাংলাদেশ।১৯৪৭ সালের দেশভাগের পূর্ববর্তী এদেশের জনগণ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে, এবং ১৯৪৭ সালের ১৪ ই আগস্ট স্বাধীনতা লাভ করে পাকিস্তান নাম ধারণ করে। আর এই স্বাধীন পাকিস্তান গঠিত হয় দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে। অর্থাৎ হাজার মাইল ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার পরে শুধুমাত্র ধর্মের দিক দিয়ে এক হওয়ার ফলে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নামে একটা স্বাধীন দেশের জন্ম হয়। এরপর যথারীতি পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা পূর্ব পাকিস্তানের উপর শোষণ রীতি অব্যাহত রাখে। তারা পূর্ব পাকিস্তানকে উপনিবেশ হিসেবে শাসন করতে থাকে। আর এই উপনিবেশিকতা থেকে মুক্তির জন্য বাঙালিরা শেখ মুজিবুর রহমান নামক মহান নেতার নেতৃত্বে মাধ্যমে সংবদ্ধ হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করা পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে বাঙ্গালিরা সাহসিকতার পরিচয় প্রদান করে। আর বাঙ্গালীদের এমন সাহসিকতার পেছনে ছিলেন মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ফলেই এই স্বাধীন দেশে জন্ম হয়।১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে স্বাধীন দেশে ফিরে আসেন এবং দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু একদল সামরিক জান্তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সোনার বাংলা গড়ার কারিগর কে নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যা করে। এরপর বাংলাদেশে অনেক উথান পতন এর ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার দিকে তারা মনোনিবেশ করেন। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়কার অর্থনীতি এবং বর্তমানে অর্থনৈতিক তুলনার মাধ্যমে উন্নয়নের চিত্র টি পরিলক্ষিত হয়। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ছিল দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার, বর্তমানে তা এখন ৩৪৮বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এছাড়াও (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ২দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৪৪ বিলিয়ন ডলার যা দেশের এক বছরের আমদানি পণ্যের মূল্য পরিশোধ করার সমপরিমাণ। এছাড়াও ১৯৭২ সালে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় যেখানে ছিল মাত্র ১২৯ ডলার এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৬৪ ডলারে আর এত কিছু সম্ভব হয়েছে মাত্র ৫০ বছরে। এছাড়াও বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নের ফলে আগে যেখানে খাদ্য আমদানি করা হতো কিন্তু রপ্তানি করা হতো না সেখানে এখন বাংলাদেশে বাংলা কিছু কিছু খাদ্য রপ্তানি করছে। এছাড়াও আগে যেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতি এককভাবে কৃষির উপর নির্ভর করত এখন সেই নির্ভরতা নীতির পরিবর্তন হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের জিডিপির ৫৪ শতাংশ এখন সেবা খাতের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। আর এমন উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশে এখন স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল, এবং নিম্ন থেকে মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে। তবে এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় কি অব্যাহত থাকবে? কারণ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত কোটা সুবিধা লাভ করত এখন যদি উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভ করে তখন এই সুবিধা থেকে বাংলাদেশে বঞ্চিত হবে। যেখানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গার্মেন্টস এবং রেমিটেন্সের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি সেখানে বাংলাদেশ তার পরবর্তী বাণিজ্য ঘটনাকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে যাই হোক না কেন বাংলাদেশের এমন উন্নয়নের ধারা যেন অব্যাহত থাকে এমন প্রত্যাশা দেশের প্রত্যেক নাগরিকের।