সড়কে মৃত্যুর মিছিল, দায় কার?

মো. আকিব হোসাইন

শিক্ষার্থী,ঢাকা কলেজ

প্রকাশিত: ১২:১৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২০ | আপডেট: ১২:১৪:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২০ |

পত্রিকার পাতা কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় যেন হঠাৎ চোখে পড়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার খবর। বর্তমানে সড়কে মৃত্যুর মিছিল যেন দৈনন্দিন রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনের তাগিদে যেতে হয় কাছে কিংবা দূরে। কেউ চাকরির জন্য, কেউ শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে, কেউ নিজ কর্মস্থলে আবার কেউ দূরে আনন্দ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে পরিবহণের মাধ্যমে সড়ক পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু মর্মান্তিক হলেও সত্য যে কতিপয় কারনবশত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো কিংবা প্রতিযোগিতামুলক মনোভাব, সড়কের অপ্রশস্ততা, প্রয়োজনাতিরিক্ত মালামাল বহণ করা, ট্রাফিক আইনের অমান্যকরণ, পথচারীদের সতর্কতাপূর্বক চলাফেরার অভাব, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি, যানবাহনের ত্রুটির উপস্থিতি, সড়ক আইনের প্রতি মনোযোগের ঘাটতি লক্ষণীয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন এমন হাজারো সংবাদ আমরা প্রতিনিয়ত লক্ষ করছি। এমন কোন দিন নাই যেদিন আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ মারা যাননি। দুর্ঘটনার মাধ্যমে কেউ আহত কিংবা কেউ নিহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক গবেষণা থেকে জানা গেছে, বর্তমানে আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় -৫৩% মারা যাচ্ছে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে, ৩৭% চালাকের প্রতিযোগীতা মনোভাব বা গাফিলতির কারণে, ১০% গাড়ির ত্রুটি এবং পরিবেশের কারণে। তাছাড়া অনেক সময় হেলপারের মাধ্যমেই গাড়ি চালানোর কারনেও সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে। আবার ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে ঘটনা ঘটে থাকে। পথচারীদের সড়কে চলাচলে নেই সচেতনতা। আবার কেউ কেউ ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহার না করে সড়কে চলাফেরা করে থাকে। গাড়ি চালানোর সময় ড্রাইভারের ধুমপান কিংবা মোবাইলে কথা বলার কারণেও সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর পরিসংখ্যানের তথ্য মতে, ২০১৯ সালে ৪৭০২ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫২২৭ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন ৬৯৫৩ জন। এর মধ্যে রেলপথ সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৬৮ টি। এতে ১৯৮ জন নিহত ও ৩৪৭ জন আহত হন। নৌপথে ৩০ টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৬৪ জন, আহত হয়েছেন ১৫৭ জন এবং নিখোঁজ হন ১১০ জন। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনগুলো হলো বাস ৯৯২ টি, ট্রাক ১০৩৩ টি, মোটরসাইকেল ১০৯৮ টি, কাভার্ডভ্যান ১৬০ টি, মাইক্রোবাস ১৫৮টি ও অন্যান্য ২১৭৮ টি। মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে বাস এবং ট্রাকের মাধ্যমে। দুর্ঘটনায় ২০০০ জন পথচারী মারা গিয়েছে। ২০১৯ সালের সড়ক দুর্ঘটনার চেয়ে ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনার খবর বেশি পাওয়া গেছে। অধিক হারে বেড়েই চলছে সড়ক দুর্ঘটনা। ঝড়ে পড়তেছে হাজারো প্রাণ। প্রতিনিয়ত শোনা যাচ্ছে সড়কে মৃত্যুর মিছিল।

সড়ক দুর্ঘটনা এক ধরণের অভিশাপও বটে। প্রশ্ন থেকে এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কে? তবে সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে পথচারীদের সড়ক আইনের লঙ্ঘের দিক থেকে পথচারীদের দায়ী করা যেতে পারে আবার পরিবহণ চালকদেরকেও দায়ী করা যায়। অতএব, সড়কের মৃত্যুর মিছিল বন্ধে কতিপয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। সেগুলো হচ্ছে- লাইসেন্সবিহীন সকল পরিবহণ গুলোর চলাচল বন্ধ করতে হবে। চালকদের উত্তম প্রশিক্ষণে দীক্ষিত হতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। প্রতিযোগিতামূলকভাবে গাড়ি চালানো পরিহার করতে হবে। পথচারীদের নিরাপদে চলাচল করতে হবে ট্রাফিক আইন মান্য করতে হবে। পরিবহণ চালানোর সময় সকল প্রকার মাদক সেবন ও মোবাইল ফোনে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। সর্বোপরি বলা যায়, সড়কে মৃত্যুর মিছিল, এ ক্ষেত্রে অদক্ষ চালক আর উদাসীন ও অসচেতন পথচারীদেরকেই দায়ী করা যায়।